প্রতিদিন কত আপনজন, কাছের জন, পরিচিত জনের মৃত্যুর সংবাদ পাই। ভাবি, আমি যে কখন মরি! মরণ সংবাদ কবে কখন কোন সময় কে কিভাবে প্রচার করে, আমি তৈরি আছি কি?’—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে ঠিক এভাবেই এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল (৫৪)।
ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাত্র একদিন পরই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং থেকে কক্সবাজারে শিক্ষাসফরে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় বাস উল্টে ইসরাফিলসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমুল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও অভিভাবকদের একটি দল দুটি বাসে করে কক্সবাজারে আনন্দভ্রমণে যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে সাতকানিয়া এলাকায় একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিলসহ আরো একজন নিহত হন।
নিহত সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল কুমিল্লা জজ কোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী এবং স্থানীয় দৈনিক রূপসী বাংলা পত্রিকার ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ওই মাদরাসার অধ্যাপক নাদিরা আফরোজ মেঘলার স্বামী।
দুর্ঘটনায় নিহত অপরজন হলেন একই মাদরাসার অধ্যাপক সোহানা আফরোজ।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় ইটভাটার শ্রমিকদের সহযোগিতায় পুলিশ ও উদ্ধার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাদরাসার অধ্যাপক নাদিরা আফরোজ মেঘলা, শিক্ষক মাওলানা তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী-সন্তান, আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মো. জাকির হোসেন, তার স্ত্রী ও মেয়ে সামিয়া আক্তার নিহা, অধ্যাপক রাসেল, অফিস সহকারী আলাউদ্দিন, তার স্ত্রী সুইটি আক্তার ও মেয়ে, দপ্তরি শাহজালাল, আয়া সেলিনা আক্তার, শিক্ষক রুনা লায়লা ও তার স্বামীসহ অন্তত ৩০ জন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আফসার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠায় এবং উদ্ধার তৎপরতা চালায়।
শিক্ষাসফরে বাস দুর্ঘটনায় দুজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন। তবে তিনি জানান, জাতীয় কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ দিন থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাসফরের বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে কোনো পূর্ব অনুমতি নেয়নি।
এদিকে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর বুড়িচংয়ের বাকশীমুল এলাকায় পৌঁছালে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।







