ফেনীতে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ, নির্যাতন ও জোরপূর্বক নাচানোর পাশাপাশি তার রেস্টুরেন্ট দখলের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচার এবং দখল হওয়া রেস্টুরেন্ট ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন করছেন ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসাইন। ছেলের অনশন শুরুর প্রায় ২৫ ঘণ্টা পর তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে সাত দফা দাবি নিয়ে অনশন শুরু করেন সাদ্দাম হোসাইন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।
সাদ্দাম হোসাইনের দাবি, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এ সময় কর্মচারীদের জিম্মি করে তাঁকে মারধর ও নির্যাতন করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর ও চেক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এ ঘটনায় ফেনীর আদালতে মামলা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন বলে দাবি সাদ্দামের।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রমজান মাসে তাঁকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় দাড়ি ধরে টানা, মুখে জুতা ঘষা, বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক নাচানো এবং ভিডিও ধারণ করা হয়। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর।
সাদ্দামের ভাষ্য, পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাইলে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধারের পর দীর্ঘ সময় থানায় আটকে রাখা এবং তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
সাদ্দাম হোসাইন তাঁর ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ফেনী সদর থানা বিএনপির এক নেতার ছেলে অপুর কুমার কর ওরফে অর্কসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগে ছাত্রদল ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা এবং তাঁদের সহযোগীদের নামও রয়েছে। দ্বিতীয় দফার নির্যাতনের ঘটনায় জেলা ছাত্রদল ও পৌর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৬৭ ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ
সাদ্দাম হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় তিনি ফেনীর পুলিশ সুপার, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রাজনৈতিক দলসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ৬৭ জন ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি তাঁর।
তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মৃত্যুবরণ করব, তবু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে যাব না।’
সাত দফা দাবি
অনশন থেকে সাদ্দাম হোসাইনের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দখল হওয়া রেস্টুরেন্ট আইনানুগভাবে উদ্ধার করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া; তাঁর দায়ের করা মামলা ও সংশ্লিষ্ট হামলার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা; হামলা, হুমকি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
এ ছাড়া ফেনী শহর ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর আহমেদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তদন্ত, সমিতির বর্তমান কমিটির বৈধতা যাচাই, দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি নিজের, ব্যবসায়িক অংশীদারদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন এই ব্যবসায়ী।







