হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরীক্ষায় নকল করতে বাধা দেওয়ায় এক শিক্ষককে ঘুষি মারার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ফারহান মিয়া ওই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং ভুক্তভোগী শিক্ষক আল-আমিন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার দুপুরে দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষক আল-আমিনের কক্ষে নকল করার সময় বাধা দেন। এ নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে ফারহানের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষককে লক্ষ্য করে ঘুষি মারে ফারহান।
একজন শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীর এমন আচরণের খবর মুহূর্তেই পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ক্লাস বর্জন করে মাঠে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত ফারহানের স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে প্রথমে উপস্থিত হন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে খবর দেওয়া হয় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব গালিব চৌধুরী ও চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। বিকেল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত তারা উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন।
একপর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ ফয়সল এমপি মোবাইল ফোনে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নির্দেশে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় চুনারুঘাট থানা পুলিশ, এসআরবি, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রিজার্ভ ফোর্সের বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ কোনো প্রকার লাঠিচার্জ বা বলপ্রয়োগ ছাড়াই অত্যন্ত ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে গাজীপুর হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসের বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ঘটনার পর ছাত্র-জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়লে আমি সঙ্গে সঙ্গে ইউএনওকে অবহিত করি এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী ও সহকারী পুলিশ সুপার রাফিউর রহমানের উপস্থিতিতে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। অভিযুক্ত ফারহানকে আমরা দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে ছাত্র-জনতা উত্তেজিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় আলোচনার ফলে আমরা সব পক্ষকে শান্ত করতে পেরেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।







