‘যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন’ বান্দরবানে চরম ভোগান্তি

Post Image

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বান্দরবান। পার্বত্য এ জেলার বিভিন্ন সড়কে পাহাড়ধস ও সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে আশপাশের এলাকার সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে জেলাটি। দূরপাল্লার যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

টানা চারদিন ধরে ভারী বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) লামার আজিজনগরে পাহাড় ধসে একই পরিবারে স্বামী-স্ত্রীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কোথাও সড়কের ওপর মাটি ও গাছ পড়ে আছে, আবার কোথাও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সড়ক তলিয়ে গেছে। এসব কারণে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম এবং জেলার কয়েকটি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়েছে। অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ মাঝপথেই অপেক্ষা করছেন। এতে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করা মানুষেরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। বর্ষার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। কাঁচা সবজি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা। তবে কাঁচা বাজারে দাম বৃদ্ধি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ১৩১ মিলিমিটার। আর গত পাঁচদিনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৮৯১ মিলিমিটার। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি কমলেও এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করছে।

প্রশাসনিক তথ্য বলছে, দুর্যোগ মোকাবেলায় বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয় খোলা রয়েছে। সেখানে বন্যাকবলিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে পাঁচ হাজার অধিক মানুষ। তাদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। তবে কোনো কোনো এলাকায় এখনো ত্রাণ পোঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, জেলা শহরে আর্মি পাড়া, শেরেবাংলা নগর, বালাঘাটা, লেমুঝিড়ি, গোয়ালিয়াখোলাসহ বেশি কয়েকটি উপজেলায় কয়েক হাজার মানুষের বাড়িঘর এখনো পানির নিচে। তবে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি কমায় ঘরবাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। কেউ কেউ পানি নামতে শুরু করায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করতে বাড়িতে ছুটছেন। তবে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পরিষ্কার পরিছন্নতা না থাকায় বিপাকে পড়েছে এসব বন্যকবলিত মানুষজন। তাদের অভিযোগ, প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে একটি রুমে থাকতে হচ্ছে গাদাগাদি করে।

উজানী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া রনি বড়ুয়া, সাগরিকাসহ কয়েকজন বলেন, ‘বন্যায় বাড়ি ডুবে গেছে। পরিবার নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। কিন্তু এখানে দেখি টয়লেট অপরিষ্কার, ময়লা, মশা মাছিসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।’ তারা বলেন, সড়ক জুড়ে পানি থাকার কারণে যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে। কোথাও পাহাড় ধসে সড়ক বন্ধ, ধাপে ধাপে নৌকা করে পার হওয়া। সবকিছু মিলে নানা ভোগান্তি মধ্যে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে৷ একই সাথে যারা পাহাড়ে পাদদেশে বসবাস করছে তাদের সরিয়ে নিয়ে প্রশাসনের মাইকিং করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্যাকবলিত মানুষদের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে দেয়া হচ্ছে৷ আর সম্মিলিত প্রয়াসে মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলায় করতে যা যা কর্যক্রম রয়েছে সেটি অব্যাহত রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

সারাদেশ

News Image

ফিলাডেলফিয়ায় বৈশাখী মেলা

সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

ছয় মাসে চট্টগ্রামে বন্ধ ৫০ কারখানা, কারণ কী

বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

লালমনিরহাটে কৃষকদের ধাওয়ায় শর্টগান-ওয়াকিটকি ফেলে পালাল বিএসএফ

বাংলাদেশকে ১০০-তে ৮০ দিলেন হাসান মাহমুদ

এক মাসের ব্যবধানে গোবিপ্রবি ভিসিকে সরিয়ে আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া হলো

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

মিউজিকসহ আর গান গাইবেন না জামায়াত নেতার ছেলে ঢাবি ছাত্র সালমান

‘শেষ হতা এক্কান, ফিরত চাই আরকান’

সর্বাধিক পঠিত

ঝিনাইদহে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা : আহত ১৩, ভাঙচুর

খুলনায় আ.লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান, ভিডিও ভাইরাল

রমজানে অনলাইনে কুরআন শেখানোর উদ্যোগ শায়খ আহমাদুল্লাহর

ইসলাম কোনো ধর্মের ওপর জোরপূর্বক কিছু চাপিয়ে দেয় না: দেলাওয়ার হোসেন

আমার মেয়ে বুকের বাঁ পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়

ঝিনাইদহে স্বতন্ত্র ও ধানের শীষ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

সদ্য বিএনপিতে যোগদান করা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দেশীয় অস্ত্রসহ আটক

বান্দরবানে গোলাগুলিতে নিহত ১

হাদি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছাল

বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরেই মারা গেলেন অপর বন্ধু