প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।
রাজধানীর কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে ‘শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সম্প্রতি ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের আওতাধীন বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় আসুক। ২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধনবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।’
ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য সব ধরনের বিদ্যালয়ের জন্য একটি ‘মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড’ বা ন্যূনতম শিক্ষাগত মান নির্ধারণ করা হবে। এর আওতায় ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলা পাঠ এবং বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোচিং বাণিজ্যের কড়া সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোচিং বাণিজ্য চাই না। শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয় থেকেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা পায়। প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের ভেতরেই অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’
শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষকে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’-এ রূপান্তর করা সম্ভব হলে আলাদা আইটি ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে।
এছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি স্থাপনে উদ্যোগ নিলে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
সভায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান মুজাহিদ বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলোকে জাতীয় বাজেটের আওতায় আনা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং শিক্ষকদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো যাবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও করের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিদ্যুৎ বিল মওকুফের বিষয়ে তিনি বলেন, সব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে মিড-ডে মিল, বিনা মূল্যে খাতা-কলম বিতরণ এবং ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা চালুর কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে ঢাকা-১৩ আসনের শিক্ষকদের জন্য ‘মাইক্রো ট্রেনিং’ কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়া শিক্ষকদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি ‘কমপ্লেইন সেল’ চালু করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা-১৩ আসনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকেরা অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, দাবি ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।







