সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাতিল করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, সাধারণ শিক্ষার সকল স্তরে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং কওমি শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষাসহ ১৮ দফা দাবি জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ।
আজ (সোমবার) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সহ-সভাপতি আব্দুল বাসেত খান, আলী আজম বি.বাড়িয়া, মহাসচিব মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মেরাজুল হক মাযহারী, সাংগঠনিক সম্পাদক দ্বীন মুহাম্মদ আশরাফ প্রমুখ।
বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র সংযোজন জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ছিল না। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামি শিক্ষাকে প্রান্তিক করে রাখা হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে নতুন প্রজন্ম দ্বীনি জ্ঞান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
একইসঙ্গে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার স্বাধীনতা ও বিশেষায়িত চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে একীভূত করার যে-কোনো উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে। কওমি শিক্ষাকে সংস্কার করার নামে এর স্বকীয়তা নষ্টের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের শীর্ষ আলেম ও কওমি বোর্ডগুলোর মতামত নেয়া জরুরি বলে জানান তিনি।
১৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সংবিধান সংশোধন করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, সকল স্তরে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, ইসলামি সংস্কৃতি সংরক্ষণে সাংবিধানিক সংশোধন, ধর্ম অবমাননা বিরোধী আইন প্রণয়ন, শরিয়াহ আদালত প্রতিষ্ঠা, কওমি মাদ্রাসার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কওমি মাদ্রাসার দান-অনুদান আয়করমুক্ত রাখা, শিক্ষা কমিশন ও জাতীয় শিক্ষাক্রম বোর্ডে কওমি আলেমদের অন্তর্ভুক্তি, অশ্লীলতা ও মাদকাসক্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ইত্যাদি।







