দুই হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর এসপি পদে নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে তার নিয়োগ বাতিল, সাময়িক বরখাস্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।
রিটে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের সাম্প্রতিক নিয়োগ/পদায়নকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান পূর্বে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি-পশ্চিম) উপ-কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রিটে দাবি করা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক হয়রানি, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে তাকে আসামি করা হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, যুবদল নেতা মিজানুর রহমানকে তথাকথিত “বন্দুকযুদ্ধ/ক্রসফায়ার” -এ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভিকটিমকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়, পরে পুলিশ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে এবং পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত দেখানো হয়। একই ঘটনায় রেজাউল করিম নামে আরেক ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটের তথ্যানুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় এমডি আইনাল হকের দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়। এছাড়া ২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে দায়ের করা আরেকটি হত্যা মামলায়ও তিনি ৩ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
রিটে বলা হয়, হত্যা, গুম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পদে বহাল রাখা সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। এতে আইনের শাসন, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ক্ষুণ্ণ হয়।
রিটে আরও বলা হয়, বিচারাধীন মামলার আসামি হিসেবে তার দায়িত্ব পালন তদন্ত প্রক্রিয়া, সাক্ষী ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং এতে জনগণের পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রিটে প্রার্থনা করা হয়েছে—ফেনীর এসপি হিসেবে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের নিয়োগ/পদায়ন কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি, তার পদায়ন আদেশ অবিলম্বে বাতিল/স্থগিত, চলমান হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত ও নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনকারী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেন, “আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের স্বার্থে গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ পুলিশি পদে বহাল রাখা উচিত নয়। জনগণের আস্থা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি।”







