রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধন নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ কমিটি গঠনসংক্রান্ত আলোচনায় উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ৫ জনের নাম চাইলে নাম দিতে সময় নিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন চলাকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন চায়ের দোকান পর্যন্ত সাংবিধানিক চর্চা চলে। সে সাংবিধানিক চর্চা আমরা এখানেও করতে চাই। যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আমি ও আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন যে আমরা একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি করতে চাই।
যেটা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। আমাদের রুল ২৬৬ অনুসারে সে কমিটির বিষয়ে আমরা ১২ জনের নাম তালিকা ঠিক করেছি। যেখানে বিএনপি আছে, যেখানে গণঅধিকার পরিষদ আছে, যেখানে গণসংহতি আছে, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিও (বিজেপি) আছে এবং স্বতন্ত্র সদস্যদেরও রাখা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদের আসনের ২৬ শতাংশ হিসেবে আমরা তাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাচ্ছি।
এখানে ১২ জনের মধ্যে বিএনপি সাতজন দিয়েছে, পাঁচজন অন্য দলের থেকে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে যদি পাঁচজনকে দেওয়া হলে এ কমিটিসংক্রান্ত বিষয় আমরা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) উপস্থাপন করতে পারব। তাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম দেওয়া হলে আমরা এ কমিটি গঠন করে সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই সনদকে বাস্তবায়নে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।’
এরপর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিরোধী দলের নেতাকে উদ্দেশে করে বলেন, ‘আইনমন্ত্রী যে কথাটা বললেন, যে বিএনপি থেকে সাতজন আর অন্যান্য সংগঠন থেকে পাঁচজন, এ ১২ জনের একটা তালিকা ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে প্রস্তুত করেছে। বিরোধী দল থেকে পাঁচজনের তালিকা চাচ্ছেন। আপনি আপনাদের পাঁচজনের তালিকাটা দিলে কমিটি গঠন প্রক্রিয়াটা এগিয়ে যাবে।
তখন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়টা নিয়ে চিফ হুইপ আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি তাকে বলেছি, এ বিষয়ে আমাদের মাঝে একটু আলোচনার প্রয়োজন আছে। কারণ এখানে কনসেপচুয়াল ডিফারেন্স আছে। তা আমরা আলোচনা করে জানাব। এটা আজকে হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন হবে না। এমনকি এ সেশনে আমরা মতামত দিতে পারব না। কারণ আমরা চেয়েছি রিফর্ম। আর এখানে হচ্ছে আপনার অ্যামেন্ডমেন্ট। এ জায়গাটায় আগেও ডিফারেন্স ছিল। তাদের যে প্রস্তাব তারা দিয়েছেন সেটাকে আমরা নিলাম, শুনলাম, কিন্তু আমরা পরে জানাব।’
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। আমরা অপেক্ষা করব। জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাব। এ জন্য প্রয়োজনে পরবর্তী সেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করব।
এরপর ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা তাহলে সংসদ এ সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছে, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ জনের সদস্য প্রস্তুত আছে এবং বিরোধীদল থেকে পাঁচজনের নাম বা এ সম্পর্কিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে একটি ডিসিশনে আসবে।







