ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী মাত্র ৯৫ জন

Post Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের বড় একটি অংশ আর্থিকভাবে স্বল্প আয়ের। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮৩২ জনের বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার কম, যা মোট প্রার্থীর ৪১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্প আয়ের এই প্রার্থীদের পাশাপাশি আরও ৭৪১ জন প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৫ লাখ ১ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে, যা মোট প্রার্থীর ৩৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ মোট প্রার্থীদের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগের বার্ষিক আয় ২৫ লাখ টাকার নিচে।

ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন প্রার্থী (৬.৫১%)। ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আয় করেন ৭১ জন (৩.৫০%)। আর ১ কোটির বেশি আয় উল্লেখ করেছেন মাত্র ৯৫ জন প্রার্থী, যা মোটের ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এছাড়া ১৫৫ জন প্রার্থী আয় সংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ বা উল্লেখ করেননি, যা মোট প্রার্থীর ৭.৬৫ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, আয় গোপন বা অসম্পূর্ণ তথ্য রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।

দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বল্প আয়ের প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কিছু বড় ও মাঝারি রাজনৈতিক দলে। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও কম আয়ের অংশ উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে, ১ কোটির বেশি আয় করা প্রার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক ৫১ জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের, এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫ জন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন ৫ জন। এই তথ্য রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক বৈষম্যের চিত্রও তুলে ধরে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার উচ্চ আয়ের প্রার্থীর হার কিছুটা কমেছে। তখন যেখানে ১ কোটির বেশি আয় করা প্রার্থীর হার ছিল ৮.৭৭ শতাংশ, এবারে তা নেমে এসেছে ৪.৫৯ শতাংশে। একইভাবে, ৫ লাখ টাকার কম আয় করা প্রার্থীর হারও কিছুটা কমেছে—তবে এখনও মোট প্রার্থীর প্রায় অর্ধেকই স্বল্প আয়ের

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একদিকে রাজনীতিতে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিলেও, অন্যদিকে নির্বাচনী ব্যয় ও প্রকৃত আয়ের সঙ্গে হলফনামায় ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আয় কম হলেও অনেক প্রার্থীর ব্যয় ও সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি, যা নির্বাচনী রাজনীতিতে অর্থের অপ্রকাশ্য ভূমিকার দিকটি সামনে আনে। তারা বলছেন, হলফনামা সংস্কার ও কঠোর যাচাই ছাড়া প্রকৃত আর্থিক চিত্র পাওয়া কঠিন।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৩২ জন চূড়ান্ত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে আয়, সম্পদ, দায়-দেনা ও মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করতে হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

সারাদেশ

News Image

ফিলাডেলফিয়ায় বৈশাখী মেলা

সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

নকআউটের আগে বড় ধাক্কা ফ্রান্স শিবিরে

উন্নয়ন তহবিল থেকে ১০ শতাংশ কমিশন দাবি ইউপি সচিবের

চট্টগ্রামে লরিচাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহী শিক্ষক দম্পতির

ভয় পাই, কথা বললে এলাকার বাজেট বন্ধ হবে না তার নিশ্চয়তা নাই

লক্ষ্মীপুরে তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতকের মৃত্যু

মেহেরপুর সীমান্তে ৭ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

বিরিয়ানির লোভে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার ২

নওগাঁ সীমান্ত থেকে ৯ জনকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ

সর্বাধিক পঠিত

ইসলামী আন্দোলন একমাত্র আল্লাহর আইনে শতভাগ বিশ্বাসী: খালেদ সাইফুল্লাহ

আমার হাঁস, আমার চাষ করা ধানই খাবে: রুমিন ফারহানা

চরমোনাই পীর বলেছেন, জামায়াত কোনো ইসলামী দল নয়: মির্জা ফখরুল

নোয়াখালীতে গভীর রাতে বিআরটিসির দুই বাসে আগুন

বাসের ধাক্কায় যুবদলের ২ নেতা নিহত

জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশটা পাকিস্তান হবে

প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে— হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ

‎কুমারখালীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

হাদিকে খুন করতেই ফয়সালকে জামিনে বের করা হয়েছিল : জুমা

সাদিক কায়েমের মেয়র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই: ছাত্রশিবির