সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরুর পর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা সংবাদ সম্মেলনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনটি আবারও হাইকোর্টের কার্যতালিকায় উঠেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) রিট আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ রিট আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ (ডিলিট) দিয়েছিলেন। আদালতের অবকাশ শেষে নতুন করে শুনানির জন্য আবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
আসিফ মাহমুদের পক্ষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। রিট দায়েরের বিষয়টি আইনজীবী নিজেই জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং সহকারী পরিচালক গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের পর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।
রিটে বলা হয়েছে, এসব সংবাদ সম্মেলন সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষা এবং দুদকের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার লঙ্ঘন। এ কারণে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন দুটির কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন আসিফ মাহমুদ।
গত ২ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানায় দুদক। পরে দুদকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ (অনিচ্ছাকৃত ভুল) বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও ৩৬ জন জেলা প্রশাসক নিয়োগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র থেকে শত কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ তোলা হয়। এ ছাড়া বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও জানানো হয়।







