শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনে স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার জেরে সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলায় গত ২০ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী মো. বাবুল মিয়া (৩৯)।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুল মিয়ার অনুপস্থিতিতে ৭ ও ৯ বছরের দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে চরম অনাহার ও মানবেতর দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার।
জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তর উত্তরসূর (লালবাগ) এলাকার বাসিন্দা মো. ছিবত মিয়া (২৬) বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২, ২৫ ও ২৭ ধারায় এ মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং-০১)।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা, কাল্পনিক ও মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। মামলায় বাবুল মিয়াসহ ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, "মাননীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে অশ্লীল বক্তব্য করায় এমপি সাহেবের অথরাইজড ছিবত নামক একজন এই মামলা করে। মামলা করে ১ (অক্টোবর) তারিখ। আগে কোন মামলা ছিল কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, আগে মামলা ছিল না তবে অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।"
এদিকে মামলার বিষয়ে বাদী ছিবত মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "মামলা কবে দিয়েছি খেয়াল নাই, সম্ভবত ১ অক্টোবর সকালে"—এ কথা বলেই তিনি কল কেটে দেন।
তবে বাবুল মিয়ার স্ত্রী মোছা. আনোয়ারা বেগম (২৬) বলেন, "আমার স্বামী কোনো অন্যায় করেননি। তিনি জুলাই আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। এমপি হাজী মুজিবুর রহমান মুজিব সাহেব আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করছেন এ নিয়ে কথা বলাতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে আমার স্বামীকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসি সাহেব বলেছিলেন, 'বাবুল এখন মধু খাওয়ার সময়, তুমিও খাও।' কিন্তু আমার স্বামী অন্যায়ের সাথে আপস করেননি। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে 'কথা আছে' বলে পুলিশ দিয়ে বাসা থেকে ডেকে নেওয়া হয় এবং পরদিন সাইবার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।"







