ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইশরাক হোসেনের নাম আলোচনায় এনে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে এগিয়ে রাখার দাবি করেছেন জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সাদিক কায়েমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো জনপ্রিয় নেতা বিএনপিতে খুঁজে পাওয়া কঠিন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাদিক কায়েমের বিপরীতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন ইশরাক হোসেন। তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে ইশরাক মেয়র নির্বাচিত হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইশরাকের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও ইশরাক সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি এখন সংসদ সদস্য। তাঁর ধারণা, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইশরাক প্রয়োজনীয় সব ধরনের চেষ্টা চালাতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, ইশরাক দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হওয়ার জন্য চেষ্টা করে আসছেন। তাঁর বাবা ঢাকার মেয়র ছিলেন। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আসিফ মাহমুদের সঙ্গেও ইশরাকের বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তাঁর সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে এগিয়ে রাখেন জাহাঙ্গীর আলশ। তাঁর দাবি, সাদিক কায়েমের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। সাদিকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা বিবেচনায় এনসিপির আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের পরিবর্তে ঢাকা উত্তর থেকে নির্বাচন করার অবস্থান নিয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সাদিক কায়েমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো শক্তিশালী প্রার্থী বিএনপির নেই। তবে ইশরাক হোসেনকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
পোস্টে তিনি ইশরাকের বিরুদ্ধে জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল করে নির্বাচিত হওয়ার অভিযোগও তোলেন। তাঁর আশঙ্কা, সিটি নির্বাচনেও একই ধরনের তৎপরতা চালানো হতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে পোস্টে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।
ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েমের সাম্প্রতিক জনসম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিভিন্ন স্থানে সাদিক কায়েমের প্রতি মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, এই জনসমর্থন সাদিককে মেয়র নির্বাচনের লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।
পোস্টের শেষাংশে জাহাঙ্গীর আলম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ঢাকা দক্ষিণে ইশরাক হোসেনসহ যে প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন না কেন, শেষ পর্যন্ত নগর পিতা হবেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাঁর এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং নির্বাচনের তফসিলের তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।







