টানটান উত্তেজনা আর দুইদিন চরম অনিশ্চয়তার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ফেরত নিয়ে যাওয়াদের মধ্যে তিন পুরুষ, চার নারী এবং চারজন শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।
সোমবার (৮ জুন) সকাল ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মশালগাঁও সীমান্ত এলাকা দিয়ে ওই ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার) চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কড়া পাহারার কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। এর পর থেকেই সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটছিল তাদের। বিশেষ করে দলটিতে শিশু এবং একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তৈরি হয় এক ধরনের সীমান্ত উত্তেজনা।
এ ঘটনার পর থেকেই বিজিবি জিরো লাইনে তাদের অবস্থান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে এবং বিএসএফের যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিতে টহল জোরদার করে।
বিজিবি জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবির জোরালো অবস্থান ও প্রতিবাদের মুখে রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার পর বিএসএফ শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় কেউ অবস্থান করছে না।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, বিএসএফ ওই ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে জিরো লাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা মোকাবিলায় বিজিবির টহল ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।







