এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দিতে চায় সরকার। এমন প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
শনিবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দেশের আট বিভাগের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীসহ দুই শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন বলেন, পরীক্ষায় খারাপ ফলের জন্য শুধু মেধার ঘাটতিকে দায়ী করা যায় না। পারিবারিক ও আর্থিক সংকট, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের অভাব, অসুস্থতা কিংবা নানা প্রতিকূলতাও এর কারণ হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ভিত্তিতে বিচার না করে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মতো প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব রয়েছে। কারও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া কিংবা পরীক্ষায় খারাপ ফলের কারণে তার অন্য প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায় না। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী ভবিষ্যতের পথ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা বিশেষ করে যে বিষয়ে শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, শুধু সেই বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পদ্ধতি নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, শুধু নম্বরের যোগ-বিয়োগ যাচাইয়ের পরিবর্তে প্রতিটি উত্তরের গুণগত মান মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষার মানোন্নয়নে মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সমস্যার কার্যকর সমাধানও জরুরি।







