৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে মেধাক্রমে নবম হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘এই রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আজকে আমাকে বিসিএস গেজেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য। আমি বা আমার পরিবারের কোনোভাবেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো ইতিহাস নেই।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘আমার বা আমার পরিবারের কারও নামে মামলা-মোকদ্দমাও নেই।’
গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এর আগে চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে সুপারিশ পাওয়া ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম গেজেটে স্থান পায়নি।
বাদ পড়া ৫৭ জনের একজন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন। তিনি ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। মেধাক্রমে তার অবস্থান ছিল নবম।
গেজেট থেকে বাদ পড়ার প্রতিক্রিয়ায় ইমতিয়াজ বলেন, “এই রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আজকে আমাকে বিসিএস গেজেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য। আমি বা আমার পরিবারের কোনোভাবেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো ইতিহাস নেই। আমার বা আমার পরিবারের কারও নামে মামলা-মোকদ্দমাও নেই। রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না।”
জুলাই আন্দোলনে নিজের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জুলাইতে সারাদেশের মানুষের মতো আমিও গণমানুষের দাবির সঙ্গে ছিলাম। যেটা এখন বিশ্ব স্বীকৃত। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন গেছে ডিপার্টমেন্টের পড়াশোনা, ক্রিকেট, টুর্নামেন্ট, ঢাকা-চট্টগ্রাম আসা-যাওয়া এভাবে। কখনো কোনো দলের হয়ে সাফাই গাইনি। সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। যারা ফিন্যান্সে পড়ে তারা জানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কিভাবে যায়। এত পরিশ্রমের পরেও আজ আমার মতো অনেকেই গেজেট বঞ্চিত হয়েছে। আমাদের দোষ কী! এই রাষ্ট্রের নাগরিক।”
এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সে সময় শিক্ষা ক্যাডারের ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনীত করা হয়েছিল। বাকি ১৫টি পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় কাউকে সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার ৫৭ জন প্রার্থীকে বাদ রেখে ৬১১ জনের চূড়ান্ত নিয়োগ নিশ্চিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে গেজেটে ইমতিয়াজসহ বাদ পড়া প্রার্থীদের নাম না থাকার নির্দিষ্ট কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।







