মাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আলামিন হোসেন (২০)। ধারদেনা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পাঁচ মাসের মাথায় ঢাকায় থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাতে না পেরে তাকে নিজ বাড়িতে ফিরতে হয়েছে।
তার এই সংকটের খবর জানার পর পড়াশোনার দায়িত্ব নিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক কমেন্টে এ কথা জানান ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের।
ফেসবুক কমেন্টে এবি জুবায়ের লেখেন, “ডাকসুর ভিপি সাদিক ভাই তার পড়াশোনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। ফ্যামিলিকেও সাপোর্ট দিবেন ইনশাআল্লাহ। অন্যান্য সবারও এগিয়ে আসা দরকার।”
আলামিন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আলেফ আলী ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করে সংসারের সদস্যদের ভরণপোষণ করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ছেলের ঢাকায় থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার খরচ বহন করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। আলামিনের হিসাবে, হলে থাকা, খাওয়া ও পড়াশোনা মিলিয়ে মাসে প্রায় ৫–৬ হাজার টাকা প্রয়োজন হতো।
মেধাবী আলামিন ২০২৩ সালে ডাঁসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ এবং ২০২৫ সালে শৈলকুপার কাতলাগাড়ি ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরে বৃত্তি পেয়ে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। ভর্তি পরীক্ষায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটে ২০তম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে ৫২৬তম স্থান অর্জন করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও ধারদেনা করে ঢাবিতে ভর্তি হন তিনি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও তার আর্থিক সংকট কাটেনি। ভর্তির দুই মাস পর হলে উঠলেও থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় থাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন আলামিন। বর্তমানে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে বসেই পড়াশোনা করছেন তিনি। সামনে পরীক্ষা থাকায় কিছু টাকা জোগাড় করে আবার ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে এরপর কীভাবে পড়াশোনা চালাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
জানা গেছে, আলামিনের পারিবারিক সংকটও দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালে পারিবারিক অসচ্ছলতা ও ঋণের চাপে তার মা কাজলী খাতুন আত্মহত্যা করেন। এরপরও গ্রামের মানুষের সহযোগিতা ও নিজের মেধার জোরে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, আলামিন অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী। তারা চান, অর্থের অভাবে যেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা বন্ধ না হয়ে যায়।







