বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন হাওলাদারকে অপহরণ করে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরীর লালবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমন হাওলাদার বলেন, ‘‘প্রেসক্লাব থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে লালবাগ এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। সেখানে তারা আমাকে মারধর করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এ সময় আমার কাছ থেকে প্রায় তিন হাজার টাকা নিয়ে নেন। আরও টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন দিতে বলেন। একপর্যায়ে আমাকে কারমাইকেল কলেজের রাস্তার বিপরীত পাশে ফেলে রেখে তারা চলে যান।’’
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব ইমতিয়াজ বলেন, ‘‘আমার বন্ধুকে বেধড়ক নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও অভিযুক্তদের মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এরপরও অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়নি। আমরা নিরাপদ রংপুর শহর চাই। এই শহরকে টোকাইমুক্ত করতে হবে।’’
ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘‘আমরা নিরাপদ রংপুর শহর চাই। শিক্ষার্থীরা যেন বারবার এ ধরনের হামলার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আজ আমাদের এক ভাই হামলার শিকার হয়েছেন। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী যেন এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয় নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে আশ্বস্ত করেছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ইতোমধ্যে একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র পেয়েছে।” তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে লালবাগ থেকে পার্ক মোড় পর্যন্ত এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পুলিশের নিরাপত্তা টহল জোরদার করার কথা জানিয়েছেন তাজহাট থানার ওসি। আশা করছি, এসব পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’’
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের কয়েকটি যৌক্তিক দাবি রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ক্যাম্পাসের মাঝামাঝি বিস্তৃত এলাকাটি পুরোপুরি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়া দিন কিংবা রাতে দুষ্কৃতকারীরা শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার যেসব ঘটনা ঘটাচ্ছে, সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’







