ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৬৮ জন ডেইলি লেবার ও থোক কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা ও আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব কর্মচারীর বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২১ লাখ টাকা প্রয়োজন হলেও সেই ব্যয় বহনের সক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই।
গত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৬তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসির অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগে চুক্তিভিত্তিক এবং থোক বরাদ্দের আওতায় কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের একাংশ পোষ্য কোটায় নিয়োগ পেয়েছিলেন। এসব কর্মচারীর অনেকেই ১০ থেকে ২০ বছর ধরে স্থায়ী নিয়োগের আশায় বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে ইউজিসির বরাদ্দ না থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিলে অর্থসংকটের কারণে তাদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “ইউজিসির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিলে অর্থ নেই। সরকার কিংবা ইউজিসি থেকেও এসব কর্মচারীর ব্যয় বহনের জন্য অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আপাতত তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে কর্মরত এসব কর্মচারীর বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২১ লাখ টাকা প্রয়োজন। গত মাসেও ঋণ করে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় ঋণ নিয়ে নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের সেবার বিষয়টি উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর ও অফিসে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজ করেও বেতন না পাওয়া তাদের জন্য কষ্টকর। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনার দাবি রাখে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান আর্থিক সক্ষমতায় তাদের বেতন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ইউজিসির নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পিয়নসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকট থাকলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট পদের চাহিদাপত্র কমিশনে পাঠাতে হবে। ইউজিসি প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিলে পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। পরবর্তী সময়ে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে কর্মরত ব্যক্তিদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করা হবে।”
কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে উপাচার্য জানান, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের গত তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। তবে ভবিষ্যতে তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।







