রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত নয় দফা দাবি নিয়ে আবারও সক্রিয় হচ্ছে ‘রাবি সংস্কার আন্দোলন’। সদ্য সাবেক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করছে প্লাটফর্মটি। রাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার মধ্যে আন্দোলনটির পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাদের নয় দফা দাবির অন্যতম হলো, অনতিবিলম্বে পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা।
রাবি সংস্কার আন্দোলনের নয় দফা দাবি হলো, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, আবাসন ভর্তুকি নিশ্চিতকরণ এবং আবাসিকতার জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, পরীক্ষায় রোলবিহীন খাতা মূল্যায়ন ও খাতা চ্যালেঞ্জের সুযোগ নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে সপ্তাহে সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল হিসেবে কার্যকর করা, প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম ডিজিটাল ও অনলাইনভিত্তিক করা, হল ডাইনিংয়ে মানসম্মত খাবারের জন্য পর্যাপ্ত ভর্তুকি প্রদান করা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সংস্কার করা, পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি (TSCC) দ্রুত কার্যকর করা, রাকসুর পূর্ণাঙ্গ তফসিল অনতিবিলম্বে ঘোষণা করা।
এ বিষয়ে রাকসুর সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “পূর্বে আমরা রাবি সংস্কারের লক্ষ্যে নয় দফা দিয়েছিলাম এবং এটা নিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছেছিলামও। তবে সেই সময়ে আমাদের নির্দিষ্ট বা স্থায়ী কোনো পেজ ছিল না। সম্প্রতি নতুন করে খোলা পেজের মাধ্যমেই আমরা মূলত আমাদের আন্দোলন ও কার্যক্রম পুনরারম্ভ করতে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই উদ্যোগ বা পেজের কাজ কেবল রাকসুকেন্দ্রিক নয়। পূর্বে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভর্তুকি, আবাসন সংকট দূরীকরণ এবং আবাসিকতার জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপসহ যে নয় দফা দাবি পেশ করেছিলাম, সেই দাবিগুলো নিয়েই মূলত আমাদের মাঠপর্যায়ের কাজ পরিচালিত হবে।”
আন্দোলনের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে আম্মার বলেন, “এই আন্দোলনের সঙ্গে আমি সরাসরি যুক্ত রয়েছি এবং বর্তমানে আমার নেতৃত্বেই সার্বিক কাজ এগোচ্ছে। আমরা খুব দ্রুতই একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সেটি প্রকাশ করব। পূর্বে রাকসুর আগে যে নয় দফা আন্দোলন ছিল, আমরা মূলত আমাদের সেই মূল আন্দোলনের ধারাতেই ফিরে যাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, রাকসু নির্বাচনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সংস্কারের দাবিতে নয় দফা দাবি উত্থাপন করেছিল ‘রাবি সংস্কার আন্দোলন’। তবে সে সময় প্ল্যাটফর্মটির নির্দিষ্ট বা স্থায়ী কোনো ফেসবুক পেজ ছিল না। বুধবার (৪ নভেম্বর) নতুন একটি ফেসবুক পেজ চালুর মধ্য দিয়ে আবারও তাদের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। পেজটির প্রথম পোস্টেই পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল দ্রুত ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি খুব দ্রুতই আন্দোলনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের কথা জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আম্মার।







