প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হবে।
এসব খাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় পৌনে ১০ হাজার টাকা। পাঁচ বছরে শুধু এ খাতেই ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং উৎসব আয়োজনেও রাখা হয়েছে বিপুল অর্থের বরাদ্দ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ইউনিফর্ম ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ বাবদ প্রায় ৯ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাঁচ বছরে ১ কোটি ৬ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য এ খাতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও সংস্কারে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা।
প্রকল্পের অন্যান্য ব্যয়ের খাতেও রয়েছে বড় অঙ্কের বরাদ্দ। বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ধোয়া-মোছার কাজে ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। বিভিন্ন উৎসব আয়োজনের জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া অনুদান বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা।
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইউনিফর্ম ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পরিকল্পনার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, শিক্ষার্থীদের জুতা, স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণও এ প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচিগুলোর মধ্যে বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, পুরোনো বিদ্যালয় সংস্কার, মিড ডে মিল কার্যক্রম এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মতো বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যাপক প্রশিক্ষণের আয়োজন রাখা হয়েছে।
তবে প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উৎসব আয়োজন ও অনুদানের মতো খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব খাতে অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা কতটা নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
এর আগে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাস্তবায়ন করা হয় চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)। তবে সরকারি মূল্যায়ন প্রতিবেদনেই ওই প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অর্জন নিয়ে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার চিত্র উঠে আসে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে পিইডিপি-৫ নেওয়া হয়েছে। ফলে আগের প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসূচির অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় এবং প্রত্যাশিত ফলাফল নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রকল্পের অর্থায়নেও সরকারের ওপর বড় চাপ পড়বে। মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে জোগান দেওয়া হবে। বাকি অর্থ আসবে ঋণ ও অনুদান থেকে।
প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর কোনটা হতে পারে?’







