পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার তদন্তে কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে আদালতের নির্দেশে ওই মামলার বাদী জাহানারা বেগমকে (৬৩) গ্রেপ্তার করেছে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন জাহানারা বেগম। মামলাটি ৮৬৪/২০২৫ নম্বরে নথিভুক্ত হয়। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ও ৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় জাহানারা অভিযোগ করেন, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি নাইমা রাবেয়া পটুয়াখালী মডেল মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাকে মক্তবের পাশের একটি স্টোররুমে নিয়ে মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহ ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং কয়েক দিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আদালতে মামলা করেন জাহানারা।
তবে তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করেন। এরপর আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন এবং বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ইমাম তানভীর হোসেনের দাবি, মডেল মসজিদে চুরির ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় জাহানারার দুই নাতিকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। তাদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পরই ইমাম, খাদেমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয়।
তানভীর হোসেন আরও বলেন, পিবিআইয়ের তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মামলাটির কারণে তারা দীর্ঘদিন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা মূলত একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। পরোয়ানাটি পর্যালোচনা করে জানতে পেরেছি, তিনি ওই মামলার বাদী এবং তার বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বর্তমানে তিনি থানায় আছেন। তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”







