স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে তার মাত্র ৩ মিনিটের বক্তব্যে ৮১ বার ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেছেন মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌস। গতকাল সোমবার বেলা ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ঘটনাটি ঘটে।
জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌস যখন মানিকগঞ্জ জেলার স্বাস্থ্য সমস্যা, সংকট ও সমাধান পরিস্থিতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরছিলেন, তখন তিনি অতি অল্প সময়ে (৩ মিনিট) রেকর্ড ৮১ বার ‘স্যার’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এটি সভায় উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং একপর্যায়ে কৌতূহল ও গুঞ্জনের জন্ম দেয়।
শুধু সিভিল সার্জনই নন, ওই একই সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামানও তার মাত্র ১ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ১০ বার ‘স্যার’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ৬৪ জেলার সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকির জন্য ৩০ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেন। তারই অংশ হিসেবে মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন মানিকগঞ্জে এই সমন্বয় সভায় অংশ নেন।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের সঙ্গে ভালো আচরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতাও জরুরি।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক জামিলুর রশিদ খান, জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার, সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌস।
এ ছাড়া জেলার সাত উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও সদর হাসপাতালের কর্মকর্তা এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, জনবল ও ওষুধের ঘাটতি দূর করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। একই সাথে মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।







