চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের কারণে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সীতাকুন্ড পৌরসভা গেট এলাকায় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও যুবদল নেতা কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষ হয়।
এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পড়ে একটি ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধিসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের জন্য পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা সীতাকুন্ড পৌরসভার এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে এবং কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা উপজেলা পরিষদের বিপরীতে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে জড়ো হন। দুই নেতার অনুসারীরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে পৌরসদরে মুখোমুখি হলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
তাদের হাতে ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়াও বাঁশ, লাঠি, লোহার রড ছিল। পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট পরা একজনকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পুলিশের সামনে দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে ৫-৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপক্ষ আরেক পক্ষের ব্যানার-ফেস্টুন কেড়ে নেয়।
তবে পুলিশ গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ধাওয়া দিয়ে দুইপক্ষকে তাদের নিজ নিজ কর্মসূচিস্থলে সরিয়ে দেয়।
সংঘর্ষের জেরে সীতাকুন্ডে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় কাজী সালাহউদ্দিন এবং পৌরসদরে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শত, শত দূরপাল্লার যানবাহন আটকে আছে। বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত যানজট অব্যাহত ছিল। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুন্ড থানার ওসি মাহিনুল ইসলাম বলেন, উভয়পক্ষের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আহত হওয়ার মতো সংঘর্ষ হয়নি। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। এখন উভয়পক্ষ আলাদা-আলাদা স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করছে। রাস্তায় সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মতো ব্যারিকেড ছিল। অস্ত্রের মহড়ার মতো তেমন কিছু আমাদের চোখে পড়েনি।
সীতাকুন্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, আমরা দুই পক্ষকে আলাদা সময়ে অনুষ্ঠান করার নির্দেশনা দিয়েছি। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর আমাদের নজর রয়েছে। এই মুহূর্তে পুলিশের একটি টিম বাঁশবাড়িয়া মহাসড়কে ব্যারিকেড সরানোর কাজ করছে।







