কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীতে ভাঙন যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছে বুড়িরহাট অংশের গুরুত্বপূর্ণ ক্রসবাঁধের রাস্তা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে ক্রসবাঁধের রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ও সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ ভোরে হঠাৎ করেই বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের রাস্তার একটি অংশে ভাঙন দেখা দেয়। পরে রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ভাঙন বিস্তৃত হতে থাকে। ভোরের দিকে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা না হলে ক্রসবাঁধের রাস্তার আরও অংশ নদীতে বিলীন হতে পারে। এতে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তিস্তা নদীর ভাঙন রাজারহাট উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি এবং পানি কমার সময় স্রোতের তীব্রতায় বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে প্রতিবছরই নদীতীরবর্তী মানুষকে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় থাকতে হয়।
বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের রাস্তার ভাঙন নতুন করে সেই শঙ্কা তৈরি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাই দ্রুত জিওব্যাগসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘তিস্তা নদীর ভাঙন এখানে নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই কোনো না কোনো এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন শুরু হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই এবার শুরুতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
এদিকে ভাঙনের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেওয়ার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কাজ করা হবে বলে আশা করছি।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো নয়, তিস্তা নদীর ভাঙন থেকে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধসহ আশপাশের এলাকা স্থায়ীভাবে রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।







