দীর্ঘ দুই দশক পর আগামী ২০ এপ্রিল নিজের জন্মভূমিতে সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমন উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ দেখা গেছে। রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি না এলেও ২০ এপ্রিল তার বগুড়া আসার কথা রয়েছে।
ওইদিন প্রধানমন্ত্রী বগুড়া জজকোর্টের একটি কার্যক্রমে অংশ নেবেন এবং পরে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে তার পৈত্রিক ভিটা পরিদর্শন করবেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া পৈতৃক ভিটার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি খাল খনন কাজেরও উদ্বোধন করবেন তিনি।
সফরের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গত শুক্রবার প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল বাগবাড়ী এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা অন দ্য স্পট গিয়ে সুবিধা-অসুবিধাগুলো চিহ্নিত করেছি। আমাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ইউএনও এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পিএম অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।
এদিকে প্রিয় নেতা ও বাড়ির প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা মহাব্বত মন্ডল বলেন, ‘আমাদের বগুড়ার ছোল তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের বাড়িতে আসছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। খালটি খনন হলে এলাকার অনেক উপকার হবে। তবে আমাদের প্রাণের দাবি, বাগবাড়ীতে যেন একটি উপজেলা করা হয় এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।’
আরেক বাসিন্দা সৈকত হাসান জানান, ২০০৪ সালের পর দীর্ঘ ১৯-২০ বছর পর তারেক রহমান নিজ এলাকায় আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার উন্নয়ন থমকে আছে।
এলাকার রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য তাঁর এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ করে খাল খনন নিয়ে বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে। রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, এর আগে প্রভাবশালীরা জবরদখল করে রাখায় সাধারণ মানুষ সুফল পেত না। এখন সরকারি উদ্যোগে খাল খনন হলে সবাই এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বগুড়ার বাগবাড়ীতে এখন নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই সফরের মধ্য দিয়েই অবহেলিত বাগবাড়ী একটি আধুনিক ও উন্নত জনপদ হিসেবে পূর্ণতা পাবে।







