মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার খাদ্যগুদামে (এলএসডি) মজুত যাচাই করে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতি পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
একই সঙ্গে সেখানে ৪১ টন ধান বেশি এবং ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তা কম পাওয়া গেছে। গুদামের হিসাবে এমন বড় ধরনের গরমিলের ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও গুদামের পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। একই দিন রাত ১০টায় মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, অধিদপ্তরের গত ২৫ আগস্টের (২০২৬) ৪৯০ নম্বর স্মারকের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ঘিওর এলএসডিতে চাল, গম ও বস্তার ওই ঘাটতি এবং ধানের বাড়তি মজুত পায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপপরিচালককে (সংস্থাপন, প্রশাসন বিভাগ) হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। পরে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ১২ নম্বর বিধি অনুযায়ী ফারহানা আক্তার ও শ্রী বিপুল কুমারকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে জেলার সব কটি খাদ্যগুদামে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ অডিট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে গুদামটি পরিদর্শন শেষে সিলগালা করে দেন খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। পরে বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি দল ঘিওরে এসে গুদামে মজুত থাকা খাদ্যশস্যের খাতাপত্র ও প্রকৃত মজুতের হিসাব মেলায়। অডিট কার্যক্রম চলমান অবস্থায় হিসাবে গরমিল ও তথ্যে অসংগতি যাচাইয়ের লক্ষ্যে গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব মেলেনি। অন্যদিকে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সার্বিক বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘মহাপরিচালক (ডিজি) স্যারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আমাদের প্রতিটি খাদ্যগুদামে বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অডিট চলাকালে আমরা ঘিওরের গুদামটিতে গরমিল খুঁজে পাই। এর পরিপ্রেক্ষিতেই যাঁরা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তদন্তের স্বার্থে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে গতকাল গুদামটি আমি বন্ধ করে দিয়েছিলাম।’
তিনি আরও জানান, গুদামগুলো নিয়ে প্রতি মাসে দুবার পাক্ষিক প্রতিবেদন দেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকেরা। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট তার কাছে যে প্রতিবেদন এসেছিল, সেখানে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।







