ঐতিহ্যবাহী সূর্যপুরী আমের জিআই স্বীকৃতি দাবিতে স্মারকলিপি

Post Image

ঠাকুরগাঁও জেলার ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু ফল সূর্যপুরী আমকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন জেলার সচেতন নাগরিক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

সোমবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের বরাবর জেলার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে এ আবেদন জমা দেন পরিবেশকর্মী অ্যাডভোকেট মো. জাহিদ ইকবাল, সমাজকর্মী মো. মামুন উর রশিদ, অ্যাডভোকেট জিতেন চন্দ্র পাল এবং অ্যাডভোকেট আশিকুর রহমান রিজভী।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সূর্যপুরী আম ঠাকুরগাঁও জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু আমের জাত, যা বিশেষ করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। এর স্বাদ, সুগন্ধ, পাতলা আঁটি এবং বিশেষ গুণাগুণের কারণে এ আম স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে জেলার কৃষি ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত।

আবেদনকারীরা জানান, ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তবর্তী মন্ডুমালা গ্রামে অবস্থিত প্রায় ২০০ বছর পুরোনো একটি সূর্যপুরী আমগাছ এশিয়ার বৃহত্তম আমগাছ হিসেবে পরিচিত। প্রায় আড়াই বিঘা এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ঐতিহাসিক গাছটি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী গাছটির বিশালতা ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে ভিড় করেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, জিআই বা ভৌগোলিক নির্দেশক এমন একটি স্বীকৃতি, যা কোনো পণ্যকে তার নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, ঐতিহ্য, গুণগত মান ও স্বকীয়তার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি, আবহাওয়া এবং কৃষকদের দীর্ঘদিনের চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে সূর্যপুরী আম একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে, যা একে অন্যান্য অঞ্চলের আম থেকে আলাদা করেছে।

আবেদনকারীদের মতে, সূর্যপুরী আমকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে এ অঞ্চলের আমচাষীরা ন্যায্য মূল্য পাবেন, আমটির স্বকীয়তা সংরক্ষিত হবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঠাকুরগাঁও জেলার সুনাম আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

তারা জানান, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জামদানি শাড়ি, বাংলাদেশের ইলিশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম, ঢাকাই মসলিন, রাজশাহীর ফজলি আম ও সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি ও কালিজিরা চাল, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল, নেত্রকোনার সাদা মাটি, বগুড়ার দই, মুক্তাগাছার মণ্ডা, পোড়াবাড়ির চমচম এবং সর্বশেষ জয়পুরহাটের লতিরাজ কচু।

আবেদনকারীরা আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) মাধ্যমে সূর্যপুরী আমকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের অভিমত, সূর্যপুরী আম শুধু একটি ফল নয়, এটি ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এর স্বকীয়তা রক্ষায় দ্রুত জিআই স্বীকৃতির উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।

এই বিভাগের আরও খবর

সারাদেশ

News Image

ফিলাডেলফিয়ায় বৈশাখী মেলা

সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫

সর্বশেষ খবর

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য, ৭ দিনের রিমান্ডে সেই আবু বকর

১৬৯ পিস ইয়াবাসহ আটক ছাত্রদল নেতা, হারালেন দলীয় পদ

সাঈদীর মামলার বাদীর দা/ফ/নে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

মাদরাসা শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় যেসব প্রস্তাব দিলেন মিজানুর রহমান আজহারী

বন্দরে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

ঝটিকা মিছিল, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ২ কর্মী আটক

সচল হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ কৃষিখাতকে রপ্তানিমুখী করতে চায় : কৃষিমন্ত্রী

ঈশ্বরদীতে আমির হামজার মাহফিল ঘিরে থানায় স্মারকলিপি দিলো ছাত্রদল

বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্রপাত নিরোধক স্থাপনের দাবি জামায়াতের

প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বাধা নেই: চেম্বার আদালত

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে প্রবাসীদের মতবিনিময়

হামের টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামে শিশুমৃত্যু রোধে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি ইনকিলাব মঞ্চের

রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো প্রস্ততি নিতে পারছে না এসএসসি পরীক্ষাথীরা

বিএনপির উদ্দেশে ফরহাদ: আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের চরিত্র কপি করবেন না

‘মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ না থাকলে গেরুয়ার প্রভাব প্রতিহত করা কঠিন হবে’