প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফর উপলক্ষে আধা কিলোমিটারের একটি কাঁচা রাস্তায় ইট ভাড়া করে এনে সেটি চলাচলের উপযোগী করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে এখন ভাড়ায় নেওয়া সেসব ইট রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে এই অস্থায়ী রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। আর এ পথ দিয়েই প্রধানমন্ত্রী তার পৈতৃক ভিটায় যান। তবে ইটগুলো তুলে নেওয়ায় এখন আবারও দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটারের কাঁচা পথটি পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছর এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কার্যাদেশ পাওয়ার পরও ঠিকাদার সঠিক সময়ে কাজ শুরু করেননি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সফরের সময় এ কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়। সব মিলিয়ে এতে ব্যয় দেখানো হয় প্রায় দশ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যে সড়কের ৫০০ মিটার অংশে বিছানো ইট পুরোটায় তুলে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিয়মনীতি মেনেই অস্থায়ীভাবে সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ওই সড়ক পাকা করতে ৮৪ লাখ টাকা আগেই বরাদ্দ হয়েছে। এ কারণে সেখানে অস্থায়ীভাবে বিছানো ইট ঠিকাদারকে তুলে নিতে বলা হয়েছে। কারণ, অস্থায়ীভাবে সোলিং করার জন্য ইট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইট কিনতে গেলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেত।
এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের আগস্ট মাসে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, এ বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরুই করেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে কাঁচা সড়কে ইট বসায় এলাকাবাসী খুশি হয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছিল। এখন সড়কের ইট তুলে নেওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ইতিমধ্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। বর্তমানে সড়কের পাশে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ চলছে। সড়কের সীমানা নিয়ে জটিলতার কারণে সাইট বুঝে দিতে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান সাজেদুর রহমান।







