কুষ্টিয়ার খোকসায় আকস্মিক ঝড়ে তিনটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র দেড় থেকে দুই মিনিটের এই ঝড়ে কয়েক শ ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। এছাড়া স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরের শতবর্ষী বটগাছ উপড়ে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রাচীর ভেঙে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার গোপকগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তোষপুর, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে এই প্রবল ঝড় বয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্যমতে, ঝড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
এলাকাবাসী জানায়, বিকেল তিনটার দিকে হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। এরপর শুরু হয় বাতাস ও বজ্রপাত। একপর্যায়ে প্রবলবেগ ঝড় শুরু হয়। প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিটের ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে তিনটি গ্রামের কয়েক শত ঘরবাড়ি, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয়ের প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙে তছনছ হয় যায়।
হঠাৎ এই দুর্যোগে চুরমার হয়ে গেছে অনেকের মাথা গোঁজার ঠাঁই ও উপার্জনের মাধ্যম। সন্তোষপুর গ্রামের তাঁতি ফরিদ শেখ জানান, ঝড়ে তার তাঁতঘরের ওপর একটি বড় মেহগনি গাছ উপড়ে পড়েছে। এতে একটি যান্ত্রিক তাঁত ও ৬টি বিম ভেঙে তার প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘর হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চায়না খাতুন নামে এক নারী। তিনি জানান, তার বসতঘর ও টয়লেট ভেঙে গেছে, যা মেরামত করার মতো সামর্থ্য তার নেই। ক্ষতিগ্রস্তরা সকলেই এখন সরকারি সহায়তার আকুতি জানাচ্ছেন।
ঝড়ে তিনটি গ্রামে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন গোপকগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল আলিম সরদার। তিনি বলেন, মুহূর্তেই কয়েক শ ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, গাছপালা উপড়ে গেছে, তাঁতের ক্ষতি হয়েছে।
খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ঝড়ে কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা শুনে আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। তাঁতের মিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ ভেঙে স্কুলের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করতে বলেছি। তারা আগামীকাল জমা দিলে ক্ষতিপূরণের জন্য সহায়তা করা হবে।







