দেশের ‘লিচুর রাজ্য’ খ্যাত দিনাজপুরে মৌসুমের শুরুতেই জমে উঠেছে লিচুর বেচাকেনা। জেলার বিভিন্ন বাগান থেকে মাদ্রাজি, বেদানা, বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা ছুটে আসছেন এই জেলায়। ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দামে চাষিরা খুশি হলেও পাইকাররা বলছেন- অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দাম কম।
ব্যবসায়ী, চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারদের আগমন বাড়লে বাজারে দামও বৃদ্ধি পাবে।
জেলার সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার বসেছে দিনাজপুর শহরের নিউমার্কেট এলাকায়। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজারজুড়ে সারি সারি ঝুড়িতে সাজানো লিচু, দর-কষাকষি আর পাইকারি বেচা-কেনায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে লিচুভর্তি ভ্যান, ইজিবাইক ও ছোট ট্রাকের দীর্ঘ সারি। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক চাষি ও বাগান মালিক রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে বিক্রির অপেক্ষা করছেন। বাজারে মাদ্রাজি, বেদানা, বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচুর ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে ৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ৪১৮টি বাণিজ্যিক লিচু বাগান রয়েছে। এর মধ্যে বোম্বাই ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর, মাদ্রাজি ১ হাজার ১৬৬ হেক্টর, চায়না-থ্রি ৮০২ হেক্টর, বেদানা ২৯৫ দশমিক ৫ হেক্টর, কাঁঠালি ৫৬ হেক্টর এবং মোজাফফরপুরী ১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এছাড়া জেলার বসতবাড়ি ও ব্যক্তিগত বাগানে প্রায় ৭ লাখ লিচুগাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৩১ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।







