আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। দলটির প্রার্থী হিসেবে ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার শহীদ আব্দুল মালেক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ ঘোষণা দেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী ও জনবহুল সিটি করপোরেশন। এ নগরবাসী এখন সৎ, দক্ষ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে।
তিনি দাবি করেন, তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ড. হাফিজুর রহমান একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। তার নেতৃত্বে গাজীপুর সিটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ড. হাফিজুর রহমান এর আগে গাজীপুর-৬ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সে সময় আমিরে জামায়াতের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি তুরস্কে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর বক্তব্যে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও জুলাই শহীদদের আদর্শ সামনে রেখে একটি মানবিক, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে কাজ করবেন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হবে তার অগ্রাধিকার।
তিনি আরো বলেন, গাজীপুরকে যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঙ্কট ও পরিবেশ দূষণমুক্ত একটি বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা উত্তর অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুর রব এবং গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক মো: জামাল উদ্দিন।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল সদস্য, পেশাজীবী প্রতিনিধি এবং মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৫ মে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় সরকার কাঠামোয় পরিবর্তন এনে পূর্ববর্তী বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ বাতিল ঘোষণা করে। এতে অনেক জনপ্রতিনিধি পদ হারান।
বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেনি।







