মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি এলাকা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া এ ঝড়ে সড়ক, বিদ্যুৎ লাইন ও ঘরবাড়ির ওপর ভেঙে পড়ে অসংখ্য গাছ, ফলে জনজীবনে নেমে আসে চরম ভোগান্তি।
ঝড়ের সময় কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে যায়। বিশেষ করে রতুলি-কাঠালতলী সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে গাছ পড়ে যাওয়ায় উভয় পাশে সহস্রাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর বড়লেখা ফায়ার স্টেশনের দমকল বাহিনী প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে গাছ অপসারণ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ে হাজার হাজার গাছপালা ভেঙে পড়ে বাড়িঘর, রাস্তা ও বিদ্যুৎ লাইনের ওপর। কুলাউড়া-চান্দগ্রাম সড়কের রতুলি বাজারের উত্তর পাশে মেহগনি ও আকাশমনি গাছ পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ, দক্ষিণভাগ উত্তর, তালিমপুর ও বড়লেখা সদর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোবারথল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ওপর গাছ পড়ে টিনের চালা উড়ে যায় এবং ভবনের দেয়াল ফেটে যায়।
ঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ লাইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু স্থানে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে এবং খুঁটি ভেঙে পড়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমের সবচেয়ে বড় ঝড়টি শনিবার বয়ে গেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দ্রুত প্রণয়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার খায়রুল বাকী খান বলেন, বিভিন্ন স্থানে লাইনের ওপর গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে এবং কিছু খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত গাছ অপসারণ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।







