সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় একটি কওমি মাদ্রাসার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা এক শিক্ষক ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামীর নেতা জামিনে মুক্তি পাওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তিনি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রজমিয়তের সাবেক সভাপতি এবং পরবর্তীতে যুবজমিয়তের উপজেলা সেক্রেটারি ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জৈন্তাপুর থানার চার নম্বর দরবস্ত ইউনিয়নের চাক্তা গ্রামের রাওজাতুল ইসলাম কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মাসুদ আজহার (৩৮)। একই মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ৪ ও ৭ বছর বয়সী দুই শিশু শিক্ষার্থীকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে সংঘটিত হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় এক শিশুর মা ফারজানা আক্তার বর্ষা (২৬) বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি শারীরিক অসুস্থতার কথা জানালে পরিবার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ নেয় এবং পরে শিশুর কাছ থেকেই নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পারে।
এরপর পরিবারের পরামর্শে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষক আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
এদিকে অভিযুক্তের জামিনে মুক্তি পাওয়ার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এমন গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পাওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন।







