ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়েছেন পদ হারানো এনায়েত গোলদার।
হাইকোর্টের আদেশে সভাপতির পদ স্থগিত হওয়ার খবর শুনে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ঢুকে সুপারের ওপর হামলা, গালিগালাজ ও জামা ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, জাহানপুর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি পদটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নিয়মবহির্ভূতভাবে পদ দখল করে রাখার অভিযোগে এনায়েত গোলদারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন বর্তমান সভাপতি মাওলানা মাকসুদুর রহমান। আদালত শুনানি শেষে এনায়েত গোলদারের সভাপতি পদটি স্থগিত করেন।
এই খবর মাদ্রাসায় পৌঁছালে ক্ষিপ্ত হয়ে এনায়েত গোলদার অফিস রুমে ঢুকে সুপারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি সুপারের ওপর চড়াও হন এবং তার গায়ের জামা ছিঁড়ে ফেলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক মোছলেহ উদ্দিন ও জহির মাস্টার হামলাকারীকে প্রত্যক্ষ ইন্ধন দেন। পরে উপস্থিত শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম, রিয়াদ হোসেন, আবুল বাসার ও মামুন মিয়ার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, "আমি ৪০ বছর এই মাদ্রাসায় সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। অভিভাবক সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের সমর্থনে উপজেলা শিক্ষা অফিসার খাইরুল ইসলাম আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করেন, যা মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত। কিন্তু এনায়েত গোলদার ক্ষমতার লোভে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষকের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজেকে সভাপতি ঘোষণা করেন। হাইকোর্ট সেই অবৈধ পদটিই স্থগিত করেছেন।"
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একজন ওস্তাদের গায়ে হাত তোলা কোন সভ্যতার মধ্যে পড়ে? যে নিজের স্বার্থে শিক্ষকের গায়ে হাত তোলে, সে জনগণের কী সেবা করবে?"
স্থানীয়দের অভিযোগ, এনায়েত গোলদার স্থানীয় সংসদ সদস্যের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছেন। তার এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জনবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় স্থানীয়রা এই ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী ও ঘৃণ কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপক্ষে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।







