কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বোড়াই গ্রামের মাঠে কৃষক মোমিন ইসলামের সরিষা ক্ষেত কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অন্যের পক্ষে ভাড়াটে হয়ে দলবল নিয়ে এ ঘটনা ঘটান।
ভুক্তভোগী মোমিন ইসলাম, যিনি পাঁচশিরা বাজার এলাকার মৃত গোলজার রহমানের ছেলে, তাঁর প্রতিপক্ষ চাচাতো ভগ্নিপতি ও যুবদল নেতাসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন প্রতিপক্ষ চাচাতো ভগ্নিপতি কালাই কৃষি ব্যাংকপাড়ার মেহেদী মাছুম, ভাড়াটে জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়া, থুপসাড়া গ্রামের জাহিদ হাসান, বেগুনগ্রামের আব্দুল জলিল, মাদারপুর গ্রামের আলিফ হোসেন, ঝামটপুর গ্রামের আমিনুর ইসলাম, তালোড়া বাইগুনী গ্রামের ইমন মিয়া, দূর্গাপুর গ্রামের সৌরভ হোসেন এবং মাদাপুর গ্রামের ইমন হোসেন। তারা প্রত্যকে যুবদল ও ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িত।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোমিন ইসলামের বাবার মৃত্যুর পর পরিবারে চাচাদের সঙ্গে জমাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মোমিনের বড় চাচা আফছার আলীর মেয়ে জামাই মেহেদী মাছুম এসব জমি নিয়ে ওই পরিবারের বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মাছুম জেলা যুবদলের সদস্য ফিতাসহ যুবদল ও ছাত্রদলের ২০-২৫ জনকে ভাড়া করে কৃষক মোমিনের জমিতে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সরিষা কাটা শুরু করেন। এ সময় ভুক্তভোগী মোমিন কোনো উপায় না পেয়ে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই তারা জমি থেকে সরিষা কেটে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এসে কালাই কৃষি ব্যাংক পাড়া মাছুমের বাড়ির সামনে স্তূপ করে রাখা সরিষা উদ্ধার করে।
ভূক্তভোগী কৃষক মোমিন বলেন, আমার বাবারা চার ভাই। আমাদের যৌথ পরিবার। আমার বাবা মারা যায় ২০১১ সালে। বড় চাচা মারা যায় ২০২৪ সালে। এরপর ছোট চাচা আফসার আলী পৃথক হয়।
আমরা সবাই আজও যৌথ পরিবারেই আছি। পারিবারিকভাবে জমিজমা নিয়ে ছোট চাচা আফছার আলীর সঙ্গে বিরোধ লেগে আছে। এরমধ্যে তার মেয়ে জামাই জেলা যুবদলের সদস্য ফিতাসহ ২০-২৫ জনকে অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে গত শনিবার আমার জমিতে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আধাপাকা সরিষা ক্ষেত কেটে নিয়ে আসে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা সবাই মিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং জমি থেকে দ্রত সরে যেতে বলে। তখন আমি ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ আসে। কিন্তু ততক্ষণে তারা সরিষা ক্ষেত কেটে নিয়ে যায়।







