ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলায় নূরে আলম মুন্সী নামে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) সকালে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসনের নির্বাচন পরিচালক কমিটির সহকারি পরিচালক ফরিদুল হুদা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সকাল সাড়ে দশটায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় তারাইল নামক স্থানে জামাত কর্মী নূরে আলম মুন্সী পিতা ইলিয়াস মুন্সী, গ্রাম ব্রাহ্মণপাড়া ইউনিয়ন আজিমনগরে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি হামলায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, কোন রাজনৈতিক মদদে বা ভিন্ন মতাদর্শীদের সহিংসতা করার কোন সুযোগ নেই। দুর্বৃত্তরা দাঁড়িপাল্লার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রচার বন্ধ করতে এই ন্যাক্কারজনক হামলা করেছে। আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেয়া হবে।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, তারা বুঝতে পেরেছে জনগণ তাদের সাথে নেই। কাজেই এই জাতীয় হামলা করে আমাদের জনপ্রিয়তা ও বিজয়কে ঠেকানো যাবে না। তাদের এই পরিকল্পনা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না ইনশাআল্লাহ।আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্য দ্রুত লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির অনুরোধ জানান।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে সূরার সদস্য রিপন সিকদার, পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক লিটু খন্দকার, জামায়াত নেতা মাসুদ মিয়া প্রমুখ।
এ ঘটনায় আহত নূরে আলম মুন্সির বাবা ইলিয়াস মুন্সী জানান, আমার ছেলে দুই মাস যাবত রাতদিন নির্বাচনী কাজে মাঠেই রয়েছে। আজ সকালে নির্বাচনী কাজে বাড়ি থেকে বের হয়ে ভাঙ্গায় যায়। পরে বাড়ি আসার পথে মোতালেব চেয়ারম্যানের বাড়ির রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলার সময় একটি গাড়িতে তিনজন লোক এসে ‘তুই জামায়াতে ইসলামী করতে চাস’ বলেই তার মাথা আঘাত করে তারা পালিয়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে যায়ি সে। ওই অবস্থায় প্রায় ২০ মিনিট পড়ে থাকে। পরে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আমি এর বিচার দাবি জানাই।
এদিকে এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, জামায়াত কর্মী আমাদেরকে জানিয়েছেন একটি ফাঁকা জায়গায় হেলমেট পরিহিত তিনজন ব্যক্তি তার উপর হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি তাদেরকে চিহ্নিত করতে পারেননি। এছাড়া এখনো আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







