সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরে বহনকারী বাসের ছবিসংবলিত একটি পোস্টে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করা আবু বকর সিদ্দিককে রমনা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাতদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। সিএমএম আদালতের অতিরিক্ত পিপি শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বুধবার গভীর রাতে রাজশাহীর পবা থানার কচুয়াতৈল এলাকার বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় ডিবি পুলিশ। শুক্রবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই দিনই তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই ইয়াছিন পাইক। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন আজ রোববার।
রিমান্ড শুনানিতে বিচারকের প্রশ্নের জবাবে আবু বকর সিদ্দিক বলেছেন, ‘মজা করে কমেন্টস করেছি। এই আসামি রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
এদিন শুনানিকালে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইয়াছিন পাইক রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আসামির পরিচয় জানতে চান। এসআই ইয়াছিন পাইক বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তথ্য পাওয়া যাবে।
এরপর বিচারক জানতে চান, ‘আবু বকর সিদ্দিক কে?’
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আবু বকর সিদ্দিক হাত তোলেন। বিচারক তার কাছে জানতে চান, আইনজীবী আছে কি না। এদিক ওদিক তাকিয়ে আসামি বলেন, নেই। রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানিতে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরে ছিলেন। বাসে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী সফরকালে আসামি স্নাইপার নিয়ে একটা পোস্টে কমেন্টস করেন। তিনি বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক পোস্ট হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। আর এরসঙ্গে আর কারা জড়িত, স্নাইপারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
এরপর বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের কাছে ওই মন্তব্য করার কারণ জানতে চান। জবাবে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এমনিতে কমেন্ট করেছি। আমার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। মজা করে কমেন্ট করেছি।’ বিচারক বলেন, ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কেউ এমন কমেন্ট করে?’ তখন আবু বকর বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে।’ পরে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।







