কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী। তার সঙ্গে তার পরিবারের আরও ৬ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম লেখেন, “কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ৬ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমরা পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।”
তিনি আরও লেখেন, “সর্বশেষ খবর অনুযায়ী মোট ১০ জন পর্যটক মারা গিয়েছেন, গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরও কয়েকজন। আমি গুরুতর আহতদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে প্রশাসন কর্তৃক সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকায় কাঠের তৈরি ওই রিসোর্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে সেখানে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। সকাল ৮টার দিকে ইউনিট দুটি সেখানে পৌঁছায়।
এদিকে, ঢাকায় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, টুপটুপ রিসোর্টটি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এর ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সও ছিল না।
তিনি জানান, গত জুনে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক নোটিশ দিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। এরপরও সেখানে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।







