চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পৌর ছাত্রদলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে।
আজ শনিবার রাতে ফরিদগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ মিনার ও ভান্ডারী মহল এলাকায় দফায় দফায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন- মামুন তরফদার, তানজিল গাজী (২৫), জিসান আহমেদ (২৫), ইফাজ (২১), রাশেদ (২০) ও হামজালা রাফি (২১)। আহতদের মধ্যে মামুন তরফদারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তার শরীরে ১৮টি সেলাই দেওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন দিন আগে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমানের অনুসারী রাহুল ও ছাত্রদল নেতা তানজিল গাজীর অনুসারী হামজালা রাফির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদগঞ্জ শহীদ মিনারের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি হয়।
পরে রাত ১২টার দিকে ভান্ডারী মহলসংলগ্ন পৌর ছাত্রদলের কার্যালয়ে একদল যুবক হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলার সময় বাধা দিতে গেলে পৌর সদর এলাকার কাছিয়াড়া তরফদার বাড়ির মো. খোরশেদ আলমের ছেলে পৌর ছাত্রদল নেতা মামুন তরফদারকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তার বুকের বাম পাশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
হামলার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা তানজিল গাজী অভিযোগ করে বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমরা ভান্ডারী মহলে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছিলাম। এ সময় আশিকুর রহমানের অনুসারী ৩০-৪০ জন উচ্ছৃঙ্খল যুবক আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং কার্যালয়ে ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা আমাদের সহযোদ্ধা মামুন তরফদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকের বাম পাশে ধারালো ছুরি দিয়ে জখম করেছে। এ ঘটনায় আমরা থানায় লিখিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমান জানান, কলেজের ঘটনা নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের বসে মীমাংসা করার কথা ছিল। কিন্তু রাতে শহীদ মিনারের সামনে তাদের মধ্যে নতুন করে হাতাহাতি হয়। পরে রাহুলের মা-বাবাসহ অনেকে সেখানে হাজির হলে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে কিছু বহিরাগত ও পরিবারের সদস্যরা দলীয় কার্যালয়ের দিকে যায়। খবর পেয়ে তারাও সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে কে বা কারা মামুনকে আঘাত করেছে, তা তারা জানেন না।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের সময় একজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







