চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেক সিএনজি চালক। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র অভিনব কৌশলে চালকদের অচেতন করে সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। আর এই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন এমন একজন, যিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন ‘দানবীর’ ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে।
চক্রের কৌশল ছিল ভয়ংকর। রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে আগে থেকেই অবস্থান নিত কয়েকজন সদস্য। কোনো সিএনজি চালক চা খেতে এলে, পরিকল্পনা অনুযায়ী তার জন্য চায়ের অর্ডার দিত চক্রের একজন। এরপর ভাড়া ঠিক করার কথা বলে চালককে ব্যস্ত রাখত আরেক সদস্য। সেই সুযোগে চায়ে মেশানো হতো চেতনানাশক ওষুধ। কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়তেন চালক, আর মুহূর্তেই উধাও হয়ে যেত সিএনজিসহ চক্রের সদস্যরা।
এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন সিএনজি চালক মাহাবুব। তিনি জানান, চা খাওয়ার পর কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারেন, তার সিএনজি নিয়ে পালিয়েছে চোর চক্র। শুধু একবার নয়, একই কৌশলে তিনি হারিয়েছেন দুটি সিএনজি।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই চক্রের মূলহোতা হিসেবে সামনে এসেছে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের ইউপি সদস্য জামাল হোসেনের নাম। এলাকায় তিনি পরিচিত ছিলেন জামাল মেম্বার হিসেবে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন সাহায্যকারী ও দানবীর ব্যক্তি।
গ্রামবাসীরা জানান, জামাল হোসেন বিভিন্ন সময় মানুষকে আর্থিক সহায়তা করতেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবেও পেয়েছিলেন এলাকার মানুষের সমর্থন। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে তার আরেক পরিচয়- সিএনজি চুরি ও ছিনতাই চক্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রক।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় চুরি হওয়া অনেক সিএনজির পেছনে এই চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সম্প্রতি জামাল হোসেনসহ চক্রের কয়েকজন সদস্য গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেফতার হন।
জিজ্ঞাসাবাদে জামাল হোসেন স্বীকার করেন, প্রতিটি সিএনজি চুরির পর নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিতেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এ কাজের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, একসময় একই কৌশলে তার নিজের অটোরিকশা চুরি হয়েছিল। পরে সেই চক্রের সাথে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে নিজেই গড়ে তোলেন একটি বড় নেটওয়ার্ক।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অপরাধের অর্থ দিয়েই তিনি জনপ্রতিনিধি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জামাল হোসেন। তার ভাষ্য, চুরি করা সিএনজি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ তিনি বিভিন্ন মানুষের সহায়তায় ব্যয় করতেন।
তবে গোয়েন্দারা বলছেন, চেতনানাশক ব্যবহার করে সিএনজি ছিনতাই শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, চালকদের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। অনেক সময় অচেতন অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এখন এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।







