কক্সবাজারের টেকনাফে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক সহকারী অধ্যাপকসহ একই পরিবারের তিন ভাইয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে হামলায় তারা গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট (বুধবার) দায়েরকৃত মামলাটিতে (মামলা নং: ৯৯, ধারা: ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭ পেনাল কোড) দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন- টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদার বিল (০৬ নং ওয়ার্ড) এলাকার হাজী বশির আহমদের ছেলে মোঃ ফারুক আলম প্রকাশ বাবুল (৩৫) এবং একই এলাকার নজির আহমদের ছেলে ফরিদ আলম (৩২)।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী টেকনাফ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড আলিয়াবাদ এলাকার মোঃ আব্দুল্লাহ (৪৮)-এর প্রয়াত পিতা এজাহারুল হকের নামীয় জমি ও মার্কেট নিয়ে আসামীদের সাথে আদালতে দেওয়ানি মামলা (মিচ মামলা নং-২৮/২০২৩) চলমান রয়েছে। আদালত থেকে বাদীদের পক্ষে রায় ঘোষণার পর থেকেই বিবাদীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
এর জেরে গত ২০ আগস্ট রাতে টেকনাফ পৌরসভার আলিয়াবাদস্থ আবহাওয়া অফিস রোড গাউছিয়া জামে মসজিদের সামনে এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। বাদী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা রামদা, ধারালো কিরিচ, দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে অতর্কিতে তার ওপর হামলা চালায়। তাকে টেনেহেঁচড়ে বাসার ভেতর নিয়ে হাতুড়ি, রড ও কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।
বাদীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার ভাই, হ্নীলা শাহ মজিদিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ এনায়েত উল্লাহ (৪২) এবং অপর ভাই আব্দুর রহমান (৫৫)-এর ওপরও সন্ত্রাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় সহকারী অধ্যাপক মোঃ এনায়েত উল্লাহর ডান হাতের কবজি, বুক ও বাহুতে এবং আব্দুর রহমানের বাম হাত ও কোমরে গভীর কাটা জখম হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাদী মোঃ আব্দুল্লাহর দুই হাতও গুরুতর রক্তাক্ত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন।
এলাকাবাসীরা জানান, অভিযুক্ত ফারুক আলম বাবুল ও ফরিদ আলমরা তাদের দলবল নিয়ে এলাকায় নিয়মিত সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে এবং জোরপূর্বক মানুষের জমি দখল করে নিচ্ছে। স্থানীয় কেউ তাদের বিরুদ্ধে বাধা দিলে বা প্রতিবাদ করলে এভাবেই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী তাদের অন্যায়-অত্যাচারের বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারটি নিয়মিত মামলা (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ আলী মর্তুজা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছেন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







