শেরপুর সদর উপজেলার ধলা ইউনিয়নের করইতলা বাজারে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় একটি পাবলিক টয়লেট। তবে জনসেবার বদলে এখন সেই টয়লেটটি ডেকোরেটর সামগ্রীর গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকা টয়লেটটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলেও পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি স্থাপনার এমন বেহাল দশায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
শেরপুর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিসের তথ্য মতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে টয়লেটটি নির্মাণ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। নির্মাণকাজটি বাস্তবায়ন করে জ্বিলানী ট্রেডার্স। ২০২৩ সালের জুন মাসে এটি করইতলা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পাবলিক টয়লেটের ভেতরে ডেকোরেটরের বিভিন্ন মালামাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আর টয়লেটের ভেতরে বসে মাদকসেবিদের নিরাপদ আড্ডা। তবে পাবলিক টয়লেটের জন্য আসবাবপত্রগুলো এখন আর নেই। আর অভিযোগ মেলে, শফিক মিয়া নামে বাজারের এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ী এই টয়লেটটি নিজের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। বরং ভিডিও ধারণের সময় তার এক স্বজন প্রতিবেদককে বাঁধা দেয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সরকারি অর্থে নির্মিত এই পাবলিক টয়লেটটি সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারছে না। হাটে আসা লোকজন জানেনই না যে এখানে একটি সরকারি পাবলিক টয়লেট আছে।
স্থানীয় মোশাররফ মিয়া বলেন, বাজারের পাশেই আমার বাড়ি। তবে এই সরকারি পাবলিক টয়লেট কোনদিন ব্যবহার হতে দেখিনি। তিনি এটার ভিতরে মালামাল রেখে এটার পরিবেশ একদম নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এই পাবলিক টয়লেটের ভিতরে ঢুকলে মনে হয় আমি কোনো পরিত্যক্ত ভবনে এসেছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মিলন মিয়া বলেন, এখানে সরকারি পাবলিক টয়লেট আছে এটা জানতামই না। এটা আমরা যতটুকু জানি এটা ডেকোরেটরের গোডাউন তাই ওইখানে যাওয়া হয় না। এই পাবলিক টয়লেটি আদৌ ঠিক হবে কিনা আমার জানা নেই।
করইতলা বাজার কমিটির সভাপতি ও ধলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, পাবলিক টয়লেটটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এটি নির্মাণের পর থেকেই কার্যকরভাবে ব্যবহার হয়নি। আগে আওয়ামী লীগের আমলে এটা কিভাবে তারা বুঝিয়ে নিয়েছিল আমার জানা নেই।
শেরপুর সচেতন নাগরিক ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির বলেন, জনগণের সেবার জন্য ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়। অথচ জনগণের ভ্যাট ট্যাক্সের এতো টাকা খরচের পরও বাজারে আসা জনসাধারণ নূন্যতম কোনো সুবিধা পাচ্ছে না, বরং সেখানে গোডাউন করা হলো। এখানে গাফিলতি কার, তা দ্রুত উদঘাটনসহ পাবলিক টয়লেটটি ব্যবহারের উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল হোসেন বলেন, টয়লেটটি নির্মাণের পর ছয় মাস পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের ছিল। এরপর এটি বাজার কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা কীভাবে এটি পরিচালনা করছে, তা আমাদের জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা বাজার কমিটির







