লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিক আব্দুল আহাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ সংগ্রহের সময় তাকে মারধর করা হয়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ধারণ করা ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল আহাদ দৈনিক দৈনিক আমার সকাল পত্রিকার রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি এবং অনলাইন মাল্টিমিডিয়া প্রজন্ম ২৪ এর লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার ৩০ মে রাত প্রায় ১০টার দিকে রায়পুর উপজেলার বাসাবাড়ি বাজার এলাকায়। সাংবাদিক আব্দুল আহাদের অভিযোগ, বিএনপি ও এনসিপির সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে,ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে একজন বিএনপি নেতা তাকে জিজ্ঞেসা করে তুমি এখানে কেনো এসেছো? আমি বললাম আমি একজন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে এসেছি তখনই ঐ লোক টি কয়েকজনকে ইশারা করে বলে এই সাংবাদিককে ধর তখনই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আমার উপর হামলা করে। এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় তিনি আরো বলেন, হামলা করার সময় ঘটনাস্থলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল করিম মিঠুও উপস্থিত ছিলেন।
তাকে দেখতে পেয়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে গেলেও তিনি হামলাকারীদের থামানোর কোনো উদ্যোগ নেননি বলে দাবি করেন আব্দুল আহাদ।তিনি আরও জানান, হামলার সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে থাকা ঘটনার ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত মুছে ফেলা হয়।
পরে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে তিনি রায়পুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরদিন সকালে তিনি জানতে পারেন, তার মোবাইল ফোন রায়পুর থানার এএসআই মঞ্জুর হোসেনের কাছে রয়েছে। মোবাইল আনতে গেলে পুলিশ তার ফোনের লক খুলে বিভিন্ন তথ্য চেক করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা অভিযোগ গ্রহণ না করে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে ওসি ছুটিতে থাকায় তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলছেন, একজন সংবাদকর্মীর ওপর প্রকাশ্যে হামলা, তথ্য সংগ্রহে বাধা এবং ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং তথ্য নষ্ট করার মতো ঘটনা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতে সংবাদকর্মীরা আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন।এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহীন মিয়া বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘটনার পর থেকে রায়পুরের সাংবাদিক সমাজ হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।







