জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আরো পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার জেলা ও উপজেলা বিএনপির পৃথক সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাহবুল আলম মিঠু এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম মেম্বার। শোকজ করা হয়েছে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আয়নাল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক এবং যুবদল নেতা মিনহাজকে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ মে সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
তবে সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি পালন না করে স্থানীয় যুবসমাজের ব্যানারে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন কয়েকজন নেতা। অনুষ্ঠানে অশ্লীল নৃত্য ও গানের আয়োজন ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দেয়।
জেলা বিএনপির বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট নেতারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, যা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আয়নাল হক জানান, ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে ওই দিন কোনো দলীয় কর্মসূচি পালন করা হয়নি। তিনিসহ ইউনিয়ন বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শোকজপ্রাপ্ত নেতারা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।
তবে বহিষ্কৃত সভাপতি মাহবুল আলম মিঠু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব বা উপস্থিত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি স্থানীয় যুবসমাজ আয়োজন করেছিল। তারাই ব্যানারে জেলা বিএনপির নেতা ও এমপির নাম ব্যবহার করেছে। আমি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম না। এ বিষয়ে জেলা বিএনপি কমিটির কাছে আমরা ক্ষমা চেয়েছি।
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তা অমান্য করে সংশ্লিষ্ট নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গোলজার হোসেন বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ দলীয় দিবসে কর্মসূচি উপেক্ষা করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’







