চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পারদিলালপুরে নির্মাণাধীন বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দুজন আহত হয়েছে।
এ ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করে ৪ মার্চ থানায় মামলা করা হয়েছে। শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানার ওসি হুমায়ুন কবির ।
এদিকে আহতরা হলেন, তাজকেরা বেগম ও সইদুল ইসলাম। ককটেল বিস্ফোরণে তারা আহত হন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে আসামিরা হলেন, পারদিলালপুরের মৃতু সেকান্দার আলীর ছেলে সামশুল হক (৬৫), শফিকুল ইসলাম ওরফে আলামিন (৫০) , আশরাফ (৫৫), মোশাররফ হোসেন (৫৩), ইয়াসিন আলী (৪৮), সইবুর রহমান (৬৭)।
মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে আবু তাহের (৩৫), জাহিদ আলী (৪৬), সামশুল হকের ছেলে জিহাদ (৪০), মৃত আলকেশ আলীর ছেলে আব্দুর রাকিব (৩৫) ও তার স্ত্রী সাথী বেগম (৩৩), সইবুর রহমানের স্ত্রী শেরিনা বেগম(৬৫) ও ছেলে কাশিম আলী (৪৮), আব্দুল মান্নানের ছেলে নুরুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ আরও ১০/১২জন অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভোগদখলীয় জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছিলেন তাজকেরা বেগম। পরে গত ৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, হাসুয়া কাতা লাঠি লোহার রড ও হাত বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। নবনির্মিত বাড়ি ভাঙচুর এবং বাড়িতে থাকা জিনিসপত্র লুটপাট করে। একইসঙ্গে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, হামলা ও লুটপাটের পর আসামিরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তারা বলে, এঘটনায় থানা বা কোর্টে কোনো মামলা মোকদ্দমা করলে সুযোগ মতো তোদের প্রাণে শেষ করা হবে।
এলাকাবাসী সূত্র জানায়, আইন আদালত তোয়াক্কা না করে পেশি শক্তি ব্যবহার জমি দখল করতে চায় আসামিরা। হঠাৎ রাতে বাসা বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের পর থেকে পুরো এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার আলামত সংগ্রহ করেছে।
আসামিরা বেশি প্রভাবশালী হওয়ায় হামলার পর ভুক্তভোগীদের মামলা দিয়ে হয়রানি চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তাজকেরা বেগম বলেন, আমাদের অনেক কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে কাঁচা বাড়ি থেকে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছিলাম। অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিল। এখনো তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। বিশেষ করে থানায় মামলা করার পর বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে অভিযোগ করেন তাজকেরা।
হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত শামসুল ইসলাম বলেন, হামলা চালানো হয়নি। আমরা বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
মামলার বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মামলাটি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে আদালতে প্রেরণ করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।







