• আসন সমঝোতায় সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা দেখাবে জামায়াত
• অবস্থান ও জনসমর্থন দেখে দলগুলোকে আসন ছাড়বে জামায়াত
• আলোচনা চললেও এনসিপির যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন প্যানেল গঠন করে আট দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করছে। ইসলামি দলগুলোর ঐক্য রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা দেখাবে জামায়াতে ইসলামী। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে, যেখানে প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা ৩০০ আসনের তালিকা থেকে ৬০ থেকে ৯০ জন বাদ পড়তে পারেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক সদস্য গণমাধ্যম কে বলেন, নতুন করে হিন্দু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা ছাত্রসংসদ থেকে নির্বাচিত প্রার্থী থাকতে পারে। তাই আগের কিছু প্রার্থী বাদ পড়বে। ইনক্লুসিভ প্যানেল গঠনের ফলে কেউ থাকবেন, কেউ বাদ পড়বেন— এটি স্বাভাবিক। প্রার্থীরাও কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে প্রস্তুত।
‘ইনক্লুসিভ প্যানেলে নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও হিন্দু প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হলে প্রাথমিক তালিকা থেকে ৬০ থেকে ৯০ আসনে প্রার্থী বাদ যেতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি।’— ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসির আরাফাত
ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসির আরাফাত জাগো নিউজকে বলেন, প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী ৬০ থেকে ৯০ আসনে প্রার্থী বাদ যেতে পারে। ইনক্লুসিভ প্যানেলে নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও হিন্দু প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হলে আগের কিছু প্রার্থী বাদ দেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা এখনো হয়নি। আট দল প্রার্থী বাছাই করবে জামায়াতের তুলনায় কতজন প্রার্থী গ্রহণযোগ্য এবং কোথায় জয়ের সম্ভাবনা বেশি—এর ভিত্তিতে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে আমরা প্রার্থীও দিয়েছি। তবে এবার সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করানোর জন্য দল সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা দেখাচ্ছে। কোনো আসনে আমাদের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ৬০ শতাংশ এবং ইসলামি অন্যান্য দলের প্রার্থীর কম জনপ্রিয়তা থাকলেও সমঝোতার স্বার্থে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
‘৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রার্থীও দিয়েছি। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা দেখাচ্ছে দল। কোনো আসনে আমাদের প্রার্থীর চেয়ে ইসলামি অন্যান্য দলের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা কম হলেও মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।’— জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম
তিনি বলেন, আমরা ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। সেই হিসেবে আমাদের প্রাথমিক তালিকার প্রার্থীদের কেউ কেউ বাদ পড়বেন। এটা স্বাভাবিক।
প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদরাসার এলাকায় অন্যান্য দলকে সুযোগ দেবে জামায়াত
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ ইসলামি দলের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ কওমি মাদরাসা এবং এর সঙ্গে যুক্ত আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, দেশের কওমি মাদরাসার প্রায় ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন কওমি ঘরানার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কওমিদের বিখ্যাত মাদরাসাগুলো যেখানে অবস্থিত, সেই এলাকায় এসব দলের অবস্থান ও জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি।
বিশেষ করে মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার আশপাশে তার উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে। যাত্রাবাড়ী এলাকায় কওমি মাদরাসার সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানেও কওমি ঘরানার দলগুলোর প্রভাব শক্তিশালী।
নেতাকর্মীরা জানান, চট্টগ্রামে হাটহাজারী, বরিশালে চরমোনাই, ঝালকাঠিতে এনএস কামিল ও ছারছিনা মাদরাসা— এ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এলাকায় কওমিভিত্তিক দলগুলোর অবস্থান বেশ মজবুত। এসব এলাকায় জামায়াত তাদের প্রার্থী বসিয়ে নির্বাচনী সমঝোতায় যেতে পারে এবং চরমোনাই ও খেলাফত মজলিসকে প্রার্থী দিতে হতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জামায়াতের প্রার্থীদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন দল যুক্ত হলে আসন সমঝোতায় চ্যালেঞ্জে জামায়াত
বর্তমানে জামায়াতসহ আট দল সমঝোতার পথে এলেও তাদের সঙ্গে আরও দুটি দল যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসলামি দলগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতারা। এক্ষেত্রে জামায়াত তার চূড়ান্ত প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে জামায়াতসহ আট দল সমঝোতার পথে থাকলেও আরও দুটি দল যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসলামি দলগুলোর সিনিয়র নেতারা। এতে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ে জামায়াত কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নবীন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জামায়াতের নির্বাচনি সমঝোতার আলোচনা চলছে। সমঝোতা হলে জামায়াতকে আরও বেশি আসন ছাড়তে হতে পারে। যদিও এনসিপি এখন পর্যন্ত ৩০০ আসনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, গুঞ্জন রয়েছে দলের বড় অংশ জামায়াতসহ আট দলের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি গণমাধ্যম কে বলেন, এনসিপিসহ আরও কয়েকটি দল জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী এবং যোগাযোগও আছে। তবে এনসিপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে তারা বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছে। ফলে জামায়াতের সঙ্গে আসার সম্ভাবনা কম। যদি তারা আট দলের সমঝোতায় যোগ দেয়, তবে তাদের চাহিদা বেশি হবে এবং জামায়াতকে কিছু আসনে প্রার্থী দেওয়া বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।







