মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী ও বাদী মানিক পশারীর দাফন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবি নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও তার বড় বোন। তিন নারী মিলে মানিক পশারীর কবর খুঁড়েছেন বলে প্রচার করা হলেও তাদের ভাষ্য, কবর খোঁড়ার সময় দুই পুরুষও ছিলেন। পরে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কবর খোঁড়ার কাজ শেষ হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মতিউর রহমান ও মানিক পশারীর বড় বোন হাসিনা পশারীর বক্তব্যে এসব তথ্য উঠে আসে।
মানিক পশারীর বড় বোন হাসিনা পশারী জানান, তার ভাইয়ের কবর খোঁড়ার সময় তিন নারীর পাশাপাশি পাশের বাড়ির দুজন পুরুষও উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য আসেন। এরপর তার ভাইকে দাফন করা হয়। সে সময় কেউ কোনো বাধা দেননি বলেও জানান তিনি।
গ্রাম পুলিশ মতিউর রহমানের ভাষ্য, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মানিক পশারীর বাড়ির কাছে প্রথমে কবর খোঁড়া হয়। তবে মাগরিবের পর একদল লোক কবরটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়। পরে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আবার কবর খোঁড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মতিউর রহমান জানান, কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম আনতে তিনি মানিক পশারীর এক বোনের বাড়িতে যান। সেখানে তার বোনকে সরঞ্জাম আনতে বলেন। এ সময় ওই নারীসহ আরও দুজন নারী সেখানে আসেন। পরে কবর খোঁড়ার জন্য লোক খুঁজতে গেলে ওই নারীরা মাটি সরানোর কাজ করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি সেই সময়ের বলে জানান তিনি।
গ্রাম পুলিশ মতিউর রহমান বলেন, তিনি ও স্থানীয় এক ব্যক্তি মিলে কবরটি খুঁড়েছেন। এ কাজে নারীরাও সহযোগিতা করেন। তাই তিন নারী একাই কবর খুঁড়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য সঠিক নয়।
তিনি আরও জানান, মানিক পশারীর দাফনের সময় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনজন গ্রাম পুলিশ এবং স্থানীয় দুজন ব্যক্তির সহযোগিতায় দাফন সম্পন্ন হয়। তবে দাফনের সময় আশপাশে কোনো নারীকে দেখেননি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবেই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।







