লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে আসা এক প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি করে মারধর, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কৃষকদল নেতা রিয়াদ হাসান বয়াতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রায়পুর বাজারের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রিয়াদ রায়পুর পৌর কৃষকদলের সভাপতি পদপ্রার্থী এবং রায়পুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে রায়পুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মীরগঞ্জ সড়কে ফারুক আহম্মেদের ভবনের নিচতলায় প্রবাসী সবুজ ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন সবুজ বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রিয়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রথমে প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর করেন এবং পরে নিজেই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী সবুজের স্ত্রী মিলি আক্তারের বান্ধবী সাথী আক্তার ওই বাসায় ভাড়া থাকেন।
ঘটনার দিন সাথীর মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে দাওয়াত পেয়ে সেখানে যান মিলি। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হঠাৎ বাসায় ঢুকে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং ঘরের মালামাল তছনছ করেন। একপর্যায়ে তারা সাথীর প্রায় এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরো বলা হয়, মিলি তাদের বাধা দিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। একপর্যায়ে তার শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করা হয়।
পরে মিলির মাকে ফোন করে তার মেয়েকে এক ছেলের সঙ্গে আটকে রাখার কথা জানানো হয়। এরপর মিলি তার স্বামী সবুজকে ফোন করে বিষয়টি জানান।
স্ত্রীকে উদ্ধার করতে বাসায় গেলে সবুজকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার মানিব্যাগ থেকে ২৫ হাজার টাকা ও ব্যাংক কার্ড নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দম্পতির মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাদের একটি কক্ষে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। দম্পতি তাদের বিয়ের ছবি দেখানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের হুমকি দিয়ে চলে যান। পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্যও হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।







