ভারতের ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে দেশটির গণতন্ত্রকামী জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম ভারতীয় তরুণদের পাশে আছে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা প্রত্যাখ্যান এবং দক্ষিণ এশিয়াকে বিভাজন ও ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের প্রতি তাঁরা দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছেন। ইন্টারনেট বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-নাগরিকদের ওপর এ ধরনের দমন-পীড়ন চলতে পারে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই লড়াই আপনাদের একার নয়। ঢাকা থেকে আমরাও আপনাদের পাশে আছি।’ ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মিল তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জবাবে তৎকালীন সরকারের বাহিনী ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারান।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিরা যে সংহতি জানিয়েছিলেন, তা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ ও সম্মান করে বাংলাদেশ।
ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সমৃদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাহীনবাগের নারী সমাজ এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলা সংগ্রাম তাঁদের অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের মতো ভারতেও নারীরা আন্দোলনের সম্মুখসারিতে উঠে এসেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, ফ্যাসিবাদ কিংবা যেকোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকে এ অঞ্চলের জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ কিংবা শ্রেণির ভিত্তিতে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, যে সমাজ সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এবং ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে, সে সমাজ কখনো গণতান্ত্রিক হতে পারে না।
বিবৃতিতে শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত সরকার তাঁদের বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটক রেখেছে। তরুণ নেতৃত্বসহ আরও কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভারতের আন্দোলনকারী তরুণ ও রাজনৈতিক বন্দিদের সহযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।
বিবৃতির শেষে দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশ রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা তাঁদের অঙ্গীকার। তাঁরা এমন একটি দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চান, যেখানে রাষ্ট্রগুলো একে অপরকে সমান মর্যাদা দেবে, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং সব দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে।







