বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মা-বাবা তার সন্তানকে শিক্ষাঙ্গণে পাঠান মানুষ হওয়ার জন্য, রক্ত ঝরানোর জন্য পাঠায়নি। সেই মানুষ হওয়ার আঙিনায় কেউ অমানুষের কাজ করুক-এটা আমরা নিন্দা জানাই, আমরা এটা চাই না। এই ব্যাপারে আমরা সোচ্চার থাকবো, এ ব্যাপারে আমাদের যা করার আমরা করব।
তিনি বৃহস্পতিবার মিরপুরে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামের একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার ও অস্ত্র প্রদর্শন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এটা দু:খজনক। এটা সারা দেশের চিত্র নয়। তবে সামান্য কোন জায়গায় এ ধরণের ঘটনা ঘটুক, এটা আমরা চাই না।
পরীক্ষা কেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শীতল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে পরীক্ষার হলে গিয়েছে। আমরা তাদের জন্য দোয়া করেছি, আল্লাহ যাতে সুস্থতার সঙ্গে তাদেরকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেন এবং তারা যেন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভ করতে পারে।
তিনি বলেন, এদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের বাংলাদেশ বের হয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ, তারাই নেতৃত্ব দিবে। মেধার যত বিকাশ ঘটবে জাতি তত এগিয়ে যাবে। আগামীতে আমরা আর রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার পরিচালিত হোক দেশ পরিচালিত হোক-এটা চাই না, আমরা চাই মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে। এটা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, কাজীপাড়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদরাসা ও শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের এমপি ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি পরীক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেন এবং তাদের সুস্থতা ও ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে সফলতার জন্য মহান রবের দরবারে দোয়া করেন।
তিনি কেন্দ্রসচিবকে পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে পরামর্শ দেন এবং পরীক্ষাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা।
পরে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক কেন্দ্রের বাইরে স্থাপিত অভিভাবকদের বসার জন্য ছাউনি এবং তৃষ্ণার্তদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থাপনাও তিনি পরিদর্শন করেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে কথা বলেন।
এ সময় অভিভাবকেরাও এই সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের ধন্যবাদ জানান।







